পরকীয়ার বলি! স্বামীকে খুন করতে নার্স স্ত্রীর নৃশংস ছক, হাসপাতালে স্যালাইনের নলে বিষপ্রয়োগ

দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার জেরে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটল তেলঙ্গানার নিজামাবাদ জেলায়। স্বামীকে খুন করতে প্রথমে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা, তাতে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের নলে টয়লেট পরিষ্কার করার তরল ঢোকানোর মতো নারকীয় অভিযোগ উঠল খোদ নার্স স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্ত্রী সন্ধ্যা, তাঁর প্রেমিক অনিল এবং অনিলের বন্ধু ভেঙ্কট সাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত প্রশান্ত সম্প্রতি বিদেশে কর্মরত ছিলেন। বাড়ি ফেরার পর থেকেই স্ত্রী সন্ধ্যার সঙ্গে তাঁর প্রেমিক অনিলের সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছায়। সেই সম্পর্কের বাধা সরাতেই তিনজনে মিলে প্রশান্তকে খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেন।
কীভাবে ঘটল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড? তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, খুনের ছকটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। প্রথমে প্রশান্তকে জোর করে অতিরিক্ত মদ্যপান করানো হয়। এরপর অনিল ও ভেঙ্কট সাই তাঁকে মারধর করে বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন। কিন্তু ভাগ্যজোরে প্রাণে বেঁচে যান প্রশান্ত। তখন অভিযুক্তরা ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করে।
প্রশান্তকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে, সেখানে শুরু হয় খুনের দ্বিতীয় পর্ব। নার্স হিসেবে কর্মরত সন্ধ্যা নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বামীর শরীরে লাগানো স্যালাইনের নলে ইনজেকশনের মাধ্যমে টয়লেট পরিষ্কার করার বিষাক্ত তরল ঢুকিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রশান্তর মৃত্যু হয়।
পুলিশের জালে অভিযুক্তরা: গত ১ জুলাই ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রশান্তর মা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন বয়ান দিতেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে ভেঙ্কট সাই খুনের কথা স্বীকার করেন। ঘটনার পর তিন অভিযুক্তকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।