বিচার নয়, প্রতিহিংসা? বারুইপুর গণপিটুনিতে নিহত নির্দোষ অটোচালকের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার বারুইপুরের এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি নিহত অটোচালকের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর এটা স্পষ্ট যে, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল এই অপরাধের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। তিনি নির্দোষ, এবং তাঁর পরিবার অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবে।” মুখ্যমন্ত্রী মৃতার পরিবারের প্রতি পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন।
আইন হাতে তুলে নেওয়া বরদাস্ত নয়: বারুইপুরে নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনার পর যে ব্যাপক ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এই অশান্তিতে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ প্রায় শেষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক উস্কানির তদন্ত: অশান্তির সময় যাঁরা উস্কানিমূলক ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই সব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সংবাদের প্রেক্ষাপট: বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে জনরোষ তৈরি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার মুহূর্তেই সন্দেহবশত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে ইন্দ্রজিৎ বাড়ি ফিরে এসেছিলেন এবং তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। একদিকে নাবালিকার দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে নিরপরাধ ব্যক্তির গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসন কতটা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।