‘তৃণমূল কি অচ্ছুত নাকি?’ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রাজপথে মমতা, পদ্মপুকুরে আটক কুণাল-বৈশ্বানর

দেশের আলোচিত NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনরত ছাত্র-যুব সমাজের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে শনিবার তীব্র পুলিশি বাধার মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দিয়ে শনিবার দুপুরের পর কলকাতার সিআইটি রোডের পদ্মপুকুর এলাকায় প্রতিবাদী জমায়েত শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তিতে চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-কে আটক করে সরাসরি লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ।
হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল মিছিলের আবেদন
শুক্রবার কলকাতায় ছাত্র-যুব সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে, শনিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বিশেষ বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয় যে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা ভেবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশ আসার পরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, প্রথমে পুলিশ মৌখিক অনুমতি দিলেও পরে রাজনৈতিক কারণে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
পদ্মপুকুরে জমায়েত ও পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ
আদালতের তরফ থেকে মিছিলে অনুমতি না মিললেও শনিবার দুপুরের পর থেকে সিআইটি রোডের পদ্মপুকুর এলাকায় দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন তৃণমূল সমর্থকরা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের তুমুল বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এর জেরে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আইন অমান্য করে এই জমায়েত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ও কড়া আক্রমণ
নেতাদের আটকের খবর পেতেই উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে। খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনদের নিয়ে সটান পদ্মপুকুর ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন। হাতে সংবিধানের কপি নিয়ে তিনি এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেন। পরবর্তীতে স্কুটারে চড়ে কালীঘাটের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন—
“আমাদের ছেলেমেয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। হঠাৎ মধ্যরাতে জানানো হলো অনুমতি দেওয়া হবে না। কেন, তৃণমূল কি অচ্ছুত নাকি? এভাবে কি আমাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা যাবে?” আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে খোদ দলনেত্রীর রাজপথে নেমে এই প্রতিবাদী অবস্থান এবং নেতাদ্রে আটকের ঘটনায় গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।