৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ডিজেপি-কে! বারুইপুর ধর্ষণ-খুনে ‘ক্লিন অ্যাকশন’-এর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সরাসরি বারুইপুর এসপি অফিসে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পাশাপাশি ডিজি এবং আইজি-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অপরাধী এবং তাদের মদতদাতা—কেউই পার পাবে না।
ডিজিপি-কে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: বারুইপুরের ঘটনার তদন্তে পুলিশকে সময় বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ডিজি-কে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। রিপোর্ট হাতে পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কড়া অ্যাকশন হবে।” তিনি আরও জানান, আর জি কর কাণ্ডের মতো এই ঘটনাতেও যারা অভিযুক্ত, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
‘ইন্ধনদাতারাও ভুগবে’: তদন্তের পাশাপাশি সাম্প্রতিক অশান্তি ও হিংসা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছে, রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা ভোটে হেরে এখন অশান্তি ছড়ানোর ইন্ধন দিচ্ছে, তারা ভাববেন না পার পেয়ে যাবেন। যারা ইন্ধন দিয়েছে, তারাও কিন্তু ভুগবে।”
প্রশাসনের কড়া বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, নিহতের পরিবারের পাশে সরকার সবরকমভাবে থাকবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি আরও যোগ করেন:
-
আউটপোস্ট চালু: নিহতের পরিবারের দাবি মেনে ওই এলাকায় নতুন পুলিশ আউটপোস্ট চালু করা হবে।
-
আইনি পদক্ষেপ: পকসো আইন এবং ন্যায় সংহিতার ধারায় কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
-
এক সপ্তাহের মধ্যে আবার পরিদর্শন: সরকার যে অ্যাকশন নিচ্ছে, তা নিজেই তদারকি করতে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফের বারুইপুরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
বারুইপুরকাণ্ডে সরকার যে কোনোভাবেই আপস করতে রাজি নয়, মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই সফর ও কড়া বার্তা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পুলিশের গাফিলতি বা রাজনৈতিক ইন্ধন—সবই যে তাঁর নজরে রয়েছে, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।