পেট্রলে ২৫ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা স্থগিত? জেনে নিন আপনার গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য কী অপেক্ষা করছে!

পেট্রলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানো নিয়ে দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। বিগত তিন বছরে পেট্রলে ইথানল মিশ্রণের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ (E-20) করার পর থেকেই সাধারণ গ্রাহক এবং অটোমোবাইল শিল্পের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়েছে যে, পেট্রলে ২৫ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E-25) যে পরিকল্পনা কেন্দ্রের ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হতে পারে।

কেন এই জল্পনা? দেশজুড়ে গাড়ি মালিকদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ই-২০ পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ার বা মরিচা পড়ার মতো গুরুতর সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। ডিলাররাও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে তাঁরা কার্যত অসহায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভবত ই-২৫ জ্বালানি চালুর ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরস্থির নীতি অনুসরণ করতে চলেছে।

কী বলছে প্রশাসন? যদিও বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে ই-২৫ পরিকল্পনা স্থগিতের খবর প্রকাশিত হয়েছে, তবে সরকারি সূত্রগুলো এই ধরনের রিপোর্টকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ই-২৫ জ্বালানি চালুর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষিত হয়নি। বর্তমানে বিভিন্ন গাড়ি মডেলে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো নতুন সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং কঠোর প্রযুক্তিগত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রেক্ষাপট: মূলত বিদেশ থেকে অশোধিত তেল আমদানি কমানো এবং পরিবেশ দূষণ রোধের লক্ষ্যেই ভারত সরকার ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি জোরদার করেছে। ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই দেশজুড়ে ই-২০ পেট্রল চালু করা হয়েছে। তবে ই-২০-এর চ্যালেঞ্জগুলো সামাল না দিয়ে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ ই-২৫-এ পা রাখা যে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা এখন বিশেষজ্ঞ মহলেও চর্চার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *