কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর! ভুলবশত পাওয়া অতিরিক্ত বেতন আদায়ে স্বস্তির পথে সরকার?

ভুলবশত বা প্রশাসনিক ভুলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের অতিরিক্ত যে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তা আদায়ের প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বিভাগের (DoE) দারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠন ‘জাতীয় পরিষদ – যৌথ পরামর্শক সংস্থা’ (NC-JCM)। সম্প্রতি এক বৈঠকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই জটিল প্রক্রিয়া বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

মূল সমস্যা ও এনসি-জেসিএম-এর আপত্তি:
সংগঠনটির সচিব শিব গোপাল মিশ্র জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে অডিট বা নিরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কর্মচারীদের বেতন ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এনসি-জেসিএম-এর মতে, এই সমস্যাটি মূলত প্রশাসনিক গাফিলতির ফল। নিরীক্ষা দলগুলো বারবার একই সময়কালের পুরনো রেকর্ড পর্যালোচনা করে ভুল বের করে, যার দায়ভার চাপে কর্মচারীদের ওপর।

এই ধরনের ভুলের প্রতিবাদ করে এনসি-জেসিএম স্পষ্ট জানিয়েছে যে:

প্রশাসনিক গাফিলতি: অতিরিক্ত বেতন প্রদান কর্মচারীদের ভুল নয়, বরং প্রশাসনের তদারকির অভাব। তাই এর জন্য কর্মচারীদের ভোগান্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

দায়বদ্ধতার অভাব: যে সময়কার ভুলের জন্য এখন অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা হয় বদলি হয়েছেন অথবা অবসর নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে কর্মচারী ওই ভুল নথিপত্র দেখার সুযোগই পান না।

পুনঃনিরীক্ষার জটিলতা: একবার নিরীক্ষায় সঠিক প্রমাণিত হওয়ার পর পুনরায় সেই একই সময়ের রেকর্ড নিরীক্ষা করা অনুচিত।

প্রস্তাবিত সমাধান ও প্রত্যাশা:
এই জটিলতা নিরসনে এনসি-জেসিএম অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিয়েছে:
১. DoP&T-এর নির্দেশিকা: ২ মার্চ, ২০১৬ সালের সরকারি নির্দেশিকা (OM) কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
২. আর্থিক মওকুফ ক্ষমতা: ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি মওকুফ করার ক্ষমতা বিভাগীয় প্রধানের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
৩. উচ্চতর সীমা: ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ মওকুফের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে তবেই তা ব্যয় বিভাগে পাঠানো হবে।
৪. দ্রুত অবহিতকরণ: কোনো কর্মচারীর অতিরিক্ত বেতনের বিষয়টি নজরে এলে দ্রুত তাকে তা জানাতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী মওকুফের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের আশ্বাস:
সচিব শিব গোপাল মিশ্র জানিয়েছেন, ২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠকের পর ডিওই সচিব আশ্বস্ত করেছেন যে, কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগের (DoP&T) সাথে আলোচনা করে এই দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। ৪৯তম সাধারণ সভায় ক্যাবিনেট সচিবের কাছেও এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। এখন সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *