সমুদ্রের বুকে ‘নিখোঁজ’ রহস্য, কেন সুন্দরবন উপকূল চষে বেড়াচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?

সমুদ্রের বুকে ধেয়ে আসা ঝড়-বৃষ্টির আগাম বার্তা পেতে যে ‘ওয়েভ রাইডার বয়’ (Wave Rider Buoy) দিনরাত কাজ করত, সেই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রটিই এখন বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ। অনেকটা বড় আকারের গোল ভাঁড়ের মতো দেখতে এই যন্ত্রটি গত ২৯ জুন দিঘার প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সময় তারের দড়ি ছিঁড়ে ভেসে যায়। ঘটনার পর থেকেই আবহাওয়ার নিখুঁত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যন্ত্রটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ইনকয়েস (INCOIS), বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এটি সমুদ্রে বসানো হয়েছিল। যন্ত্রটি জলের গভীরে কংক্রিটের বোল্ডারের সঙ্গে লোহার তার দিয়ে বাঁধা ছিল। এতে থাকা দু’টি অ্যান্টেনার একটি বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে এবং অন্যটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে হায়দরাবাদে অবস্থিত ইনকয়েস-এর সদর দপ্তরে সাঙ্কেতিক বার্তা পাঠাত। সমুদ্রের ঢেউ, আবহাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের নিখুঁত তথ্য পেতে এটি ছিল অন্যতম ভরসা।

খোঁজ চলছে তিন উপকূল জুড়ে নিখোঁজ যন্ত্রটির সন্ধানে হায়দরাবাদ থেকে বিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দল বকখালি, গঙ্গাসাগর ও কাকদ্বীপ উপকূলে পৌঁছেছে। ফিল্ড বয় অক্ষয়ের ভাষ্যমতে, তাঁদের কাছে থাকা রিসিভারে ৩০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে যন্ত্রটির অবস্থান ধরা পড়ার কথা। তবে খারাপ আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধারকারী বোট সমুদ্রে নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ভরত কুমার জানিয়েছেন, যন্ত্রটি থেকে এখন আর কোনো সিগন্যাল আসছে না। এমতাবস্থায় সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে—যদি সমুদ্রের বুকে এই ভাসমান গোলাকার যন্ত্রটি নজরে আসে, তবে যেন দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়।

২৯ জুন কাকদ্বীপের এক মৎস্যজীবী এর হুকটি দেখেছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, যন্ত্রটি ভাসতে ভাসতে কাকদ্বীপ বা সুন্দরবন উপকূলের দিকেই চলে গিয়েছে। যন্ত্রটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সামুদ্রিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *