বিছানার পাশে সাপ! মাটির বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪০টিরও বেশি বিষধর, আতঙ্ক পাটনায়

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় হঠাৎ যদি বিছানার পাশে বিষধর সাপ ফণা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে অবস্থা কী হবে? পাটনার সমকুড়া গ্রামের শম্ভু প্রসাদের পরিবারের জন্য এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। তবে তার চেয়েও বড় চমক অপেক্ষা করছিল পরের দিন। বাড়ির বিভিন্ন কোণ থেকে একে একে উদ্ধার হলো ৪০টিরও বেশি বিষধর সাপ!
কীভাবে এল বিপদ?
পরিবারের সদস্য বন্টি কুমার জানান, তিন দিন আগে রাতে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢোকার সময় তিনি একটি বিষধর সাপ দেখতে পান। তড়িঘড়ি সেটিকে সরিয়ে ফেলা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির অন্য অংশ থেকে আরও দুই-তিনটি সাপ বেরিয়ে আসে। বিষয়টি সাধারণ ভেবে প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও, পরে বাড়তে থাকে আতঙ্ক।
৪০টির বেশি সাপের ডেরা:
পরের দিন গ্রামবাসীদের সাহায্যে কয়েকটি সাপ মারা হলেও পরিবারের সন্দেহ হয়, বাড়ির নিচে হয়তো আরও সাপ লুকিয়ে আছে। খবর দেওয়া হয় সাপুড়েকে। সাপুড়ে তল্লাশি শুরু করতেই মাটির বাড়ির বিভিন্ন অংশ থেকে একের পর এক ৪০টিরও বেশি বিষধর সাপ বেরিয়ে আসতে থাকে। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয় মানুষজন। সৌভাগ্যবশত, বাড়ির কোনো সদস্য সাপের কামড়ের শিকার হননি।
বর্ষায় কেন বাড়ছে এমন ঘটনা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে সাপ তাদের গর্ত বা ঝোপঝাড় ছেড়ে খাবারের সন্ধানে বা জল থেকে বাঁচতে লোকালয়ের কাছাকাছি বাড়ি ও চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে। সম্প্রতি বিহারের গোপালগঞ্জেও সাপের কামড়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৭২ ঘণ্টায় সেখানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর বিহারে সাপের কামড়ের ৪ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সতর্কবার্তায় স্বাস্থ্য দপ্তর:
এই ধরনের বিপদ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে:
ঝাড়ফুঁক এড়িয়ে চলুন: সাপে কামড়ালে কোনোভাবেই ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় নেওয়া যাবে না।
দ্রুত চিকিৎসা: কামড় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সময়মতো অ্যান্টি-ভেনম পেলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
সতর্কতা: বর্ষাকালে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গর্তের দিকে নজর রাখা জরুরি।