বর্ষার দুপুরে পাতে হোক একটু অন্যরকম চমক! জিভে জল আনা ‘কই কমলা’ রান্নার দারুণ রেসিপি

ঝমঝমে বর্ষার এই মৌসুমে বাজারে হরেক রকমের টক-মিষ্টি ফলের সমারোহ দেখা যায়। আর এই ফলের ভিড়েই স্বাদে, সুগন্ধে এবং অনন্য রসালো গঠনের জন্য সকলের অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠে কমলা লেবু। তবে শুধু ফল হিসেবে খাওয়া কিংবা জুস বানানোর জন্যই নয়, বরং ঘরোয়া আড্ডায় বা বিশেষ অতিথি আপ্যায়নে খাবারের পাতে এক দারুণ ও রাজকীয় চমক আনতে পারে ‘কই কমলা’ নামের এই অভিনব পদটি। খুব বেশি বড় আয়োজন ছাড়াই কম পরিশ্রমে অতিথিদের সামনে পরিবেশন করতে চাইলে এই রেসিপিটি হতে পারে অত্যন্ত সহজ, স্বাস্থ্যকর ও রুচিশীল একটি সেরা পছন্দ। আসুন জেনে নেওয়া যাক জিভে জল আনা এই পদ তৈরির সহজ পদ্ধতি—
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
কই মাছ: ৪টি
কমলার রস: ১ কাপ ও কিছু সতেজ কমলার কোয়া
সর্ষের তেল: পরিমাণমতো
হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়া: আধ চা চামচ করে
কাঁচামরিচ ফালি: ৪-৫টি
পেঁয়াজ বাটা: ৬০ গ্রাম
জিরে ও আদা বাটা: সামান্য
গোটা গরম মশলা ও তেজপাতা (ফোড়নের জন্য)
লবণ ও চিনি: স্বাদমতো
তৈরির সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি:
১. প্রথমে তাজা কই মাছগুলি ভালো করে পরিষ্কার করে জল দিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর সামান্য লবণ ও হলুদ গুঁড়ো ভালোভাবে মাখিয়ে কড়াইতে পরিমাণমতো সর্ষের তেলে হালকা সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভেজে আলাদা একটি পাত্রে তুলে রাখুন।
২. এবার মাছ ভাজার ওই তেলেই তেজপাতা ও গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। মশলা থেকে সুন্দর সুগন্ধ বের হলে তাতে আগে থেকে তৈরি করে রাখা পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা ও জিরে বাটা যোগ করুন এবং মাঝারি আঁচে মশলাটি খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে থাকুন।
৩. মশলা কষা হয়ে গেলে যখন তা থেকে তেল আলাদা হয়ে আসবে, তখন গ্রেভির জন্য প্রয়োজনমতো সামান্য জল দিন। এরপর স্বাদমতো লবণ, অল্প একটু চিনি এবং ১ কাপ কমলার রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঝোল ফুটতে দিন।
৪. ঝোল ভালোভাবে ফুটে উঠলে আগে থেকে ভেজে রাখা কই মাছগুলি একে একে তাতে ছেড়ে দিন এবং কড়াই ঢেকে কিছু সময় রান্না করুন। গ্রেভি বা ঝোল আপনার পছন্দমতো ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করার ঠিক আগের মুহূর্তে ওপর থেকে কমলার কোয়া ও চেরা কাঁচামরিচ ছড়িয়ে দিন। ব্যস, এবার নামিয়ে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ‘কই কমলা’।