পুকুরের অদূরে মদ-গাঁজার ঠেকেই গণধর্ষণ? বারুইপুর কাণ্ডে আরও একাধিক তথ্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক নারকীয় তথ্যের খতিয়ান। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীকে জীবিত অবস্থাতেই পুকুরে ফেলে দিয়েছিল।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল কৌশলে নাবালিকাকে অদূরে থাকা একটি ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার। অভিযোগ, ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত বসত মদ্যপান ও গাঁজার আসর। সেখানেই তিনজন মিলে নাবালিকার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালায়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গোপনাঙ্গ ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নির্যাতনের সময় এক অভিযুক্ত নাবালিকার গলায় পা তুলে দিয়েছিল। মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার ফলে সে অচৈতন্য হয়ে পড়ে।

পুকুরে ফেলে দেওয়ার বীভৎসতা পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে অচেতন নাবালিকার দেহ সরানোর ছক কষে অভিযুক্তরা। প্রথমে দেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় সেটিকে কাছাকাছি একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে বস্তাটি দিয়ে দেহটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

সবথেকে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং’ বা জীবিত অবস্থায় জলে ডুবে মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিশোরীর ফুসফুস ও পাকস্থলীতে প্রচুর জল মিলেছে, যা প্রমাণ করে পুকুরে ফেলার সময় সে জীবিত ছিল। জলে ডুবে ও আঘাতের জেরে তার মৃত্যু হয়।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি এই ঘটনায় পুলিশ আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ভিসেরা রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *