আবাস যোজনার কাটমানি ফেরত! টাকা পেয়ে হতবাক উপভোক্তারা, এলাকায় ব্যাপক শোরগোল

রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বদল আসতেই কাটমানি নিয়ে সরগরম শীতলকুচি। আবাস যোজনার নাম করে একসময় যাদের থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেই উপভোক্তারা এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন। রবিবার গভীর রাতে শীতলকুচি ব্লকের রথেরডাঙা ২৪১ নম্বর বুথে এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?
রবিবার রাত আটটা নাগাদ গ্রামের ১২৭ জন উপভোক্তার হাতে নগদ ৮ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই টাকা ফেরানোর দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন এক পঞ্চায়েত সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর অবশেষে টাকা ফেরত পেয়ে হতবাক উপভোক্তারা। তাঁদের অনেকেরই দাবি, লাগাতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরেই এই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন অভিযুক্তরা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই ঘটনাকে পুঁজি করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবাশীস বর্মণ বলেন, “আমরা এতদিন যে অভিযোগ করে আসছিলাম, তা যে মিথ্যা নয়, আজ তা প্রমাণিত। কেন্দ্রের প্রকল্পে তৃণমূল নেতারা কীভাবে দুর্নীতি চালিয়েছেন, এই টাকা ফেরত দেওয়াই তার বড় প্রমাণ।”

তৃণমূল নেতার দাবি ও বিতর্ক:
অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য সিরাজুল হক বলেন, “দলের নির্দেশে সাংগঠনিক কাজের খরচের জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, অভিযুক্তের মেয়ের দাবি, তাঁর পিতাকে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার বাবা এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন। অথচ অভিযোগ তোলা হচ্ছে তিনি টাকা নিয়েছেন। চাপে পড়েই এই টাকা ফেরানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে:
এতদিন পর হঠাৎ কেন উপভোক্তাদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে দেখছেন। প্রশাসন এই গোটা ঘটনার ওপর কোনো তদন্ত চালায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *