আবার বারুইপুর! ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কিশোরকে কুপিয়ে খুন, রণক্ষেত্র হাসপাতাল চত্বর

নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে বারুইপুর যখন শোক ও উত্তেজনার কেন্দ্রে, ঠিক তখনই আরও এক নৃশংস খুনের ঘটনায় এলাকা ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল। রবিবার রাতে বারুইপুরের পালপাড়া এলাকা থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে এই খুন বলে অভিযোগ পরিবারের।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনদিন আগে একটি ফুটবল ম্যাচে জয়লাভ করেছিল প্রসেনজিৎ। সেই জয়ের আনন্দই শেষ পর্যন্ত কাল হলো কিশোরের জন্য। ওই ম্যাচকে কেন্দ্র করেই এলাকার তিন যুবকের সঙ্গে তার বিবাদ বেঁধেছিল। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই এদিন প্রসেনজিৎকে ডেকে পাঠানো হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়।
হাসপাতাল চত্বরে তুমুল উত্তেজনা:
প্রসেনজিতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের ক্যাম্প ভাঙচুর করার অভিযোগও উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। মৃত কিশোরের পরিবারের দাবি, প্রসেনজিৎকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। অভিযুক্তদের পুলিশ আটক করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনলে সেখানেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বারুইপুরে অস্থিরতা ও পুলিশের ভূমিকা:
বারুইপুর ইতিমধ্যে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার খুনের ঘটনা পুলিশের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নাবালিকা কাণ্ডে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সরকারি আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে তাদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে কিশোর খুনের ঘটনা প্রশাসনের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বারুইপুরের একের পর এক খুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।