তেল-সাবান আনতে গিয়েছিলেন মা, ফিরে এসে দেখলেন সব শেষ! দেওয়াল চাপা পড়ে শিশুমৃত্যু পুঞ্চায়

বাচ্চার জন্য তেল-সাবান আনতে যাওয়ার মাঝখানের কয়েকটা মুহূর্তই যে চিরতরে কেড়ে নেবে শিশুকন্যার প্রাণ, তা কল্পনাও করতে পারেননি মা সোনালি সোরেন। বৃষ্টির জেরে নড়বড়ে হয়ে থাকা মাটির দেওয়াল ধসে আট মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এল পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের জামবাদ অঞ্চলের জতিয়াট্যাঁড় গ্রামে।

কী ঘটেছিল সোমবার?
পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতোই স্নান করানোর জন্য বাড়ির বারান্দার পাশে জলের পাত্রের কাছে নিজের শিশুকন্যাকে শুইয়ে রেখেছিলেন মা। তিনি পাশেই তেল ও সাবান আনতে গিয়েছিলেন। আচমকাই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে বাড়ির চারপাশ। দৌড়ে এসে মা দেখেন, পাশের মাটির দেওয়ালটি সম্পূর্ণ ভেঙে শিশুর ওপর পড়েছে। ঘটনাস্থলেই অকুস্থলে ধুলো আর মাটির স্তূপে চাপা পড়ে যায় শিশুটি।

হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি:
বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই তড়িঘড়ি মাটি খুঁড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মেয়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা সোনালি সোরেন। তাঁর বিলাপ, “আমি তো শুধু তেল-সাবান আনতেই গিয়েছিলাম, আমার সব শেষ হয়ে গেল!”

দেওয়াল চাপা পড়ার করুণ অতীত জতিয়াট্যাঁড় গ্রামে:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামের মাটির দেওয়ালগুলো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিলই। স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক চন্দ্র মান্ডি জানান, “জোরালো শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি দেওয়াল চাপা পড়ে আছে শিশুটি। দ্রুত উদ্ধার করলেও বাঁচানো যায়নি।” গ্রামবাসীদের আক্ষেপ, জতিয়াট্যাঁড় গ্রামে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। গত বছরও মাটির দেওয়াল ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় গ্রামের মাটির ঘরগুলির নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠে আসছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *