“বিড়াল-কুকুরকে টিকিট দিলেও জিতবে ভাবছে বিজেপি!” নজিরবিহীন তোপ দেগে ভোটের ময়দানে নামলেন প্রশান্ত কিশোর

বিহারের রাজনীতিতে এবার মহাধামাকা! আসন্ন বাঁকিপুর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেই রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প এনে দিলেন ‘জন সুরজ পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা তথা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। আর ময়দানে নামতেই তাঁর নিশানা বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এই উপনির্বাচনকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তার ওপর একটি “গণভোট” বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন পিকে। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে হারলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
টিভি৯ ভারতবর্ষকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন:
“গত বিধানসভা নির্বাচনে সম্রাট চৌধুরী জোটের মুখ ছিলেন না, সাধারণ মানুষ তাঁকে জেতায়নি। তাঁকে পেছনের দরজা দিয়ে আনা হয়েছিল। এই উপনির্বাচনটি সম্রাটের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। এখানে হেরে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার তাঁর থাকবে না।”
“বিজেপির ঔদ্ধত্যের জবাব দেবে জনতা”
বিজেপির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, এই লড়াইটি আসলে বিজেপির অহংকার ভাঙার নির্বাচন। তাঁর কথায়, “বিজেপি এতটাই ঔদ্ধত্যে ভুগছে যে তারা মনে করে একটা বিড়াল বা কুকুরকে টিকিট দিলেও এই আসনে জিতে যাবে। সম্রাট চৌধুরীর আচরণ ও চরিত্র তাঁর পদের সঙ্গে খাপ খায় কি না, বাঁকিপুরের শিক্ষিত জনগণের কাছে তা প্রমাণ করার এটাই সেরা সুযোগ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসকের অধীনে বিহারে ভালো কিছু হওয়া অসম্ভব।
আমি বিধায়ক হতে আসিনি, ব্যবস্থা বদলাতে এসেছি: পিকে
নিজে নির্বাচনে লড়াই করা প্রসঙ্গে পিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ক্ষমতার লোভ তাঁর নেই। তিনি বলেন, “আমি শুধু বিধায়ক হওয়ার জন্য লড়ছি না, বরং বিহারের ঘুণে ধরা রাজনৈতিক ব্যবস্থাটা বদলাতে লড়ছি।” তেজস্বী যাদবের মহাজোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বাঁকিপুরের পরিবেশ এবার জন সুরজ পার্টির অনুকূলে এবং ভোটাররা মনস্থির করে ফেলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানান, তাঁরা কোনো চোর-পুলিশের জোট রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
কেন ফাঁকা হলো বাঁকিপুর আসন?
বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিহার বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করায় এই বাঁকিপুর আসনটি শূন্য হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে এই আসনটি বিজেপির একচ্ছত্র দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার পিকে-র এন্ট্রিতে লড়াই বেশ কঠিন।
রবিবার নিজের প্রার্থিতা ঘোষণার পর ভোটারদের উদ্দেশ্যে পিকে বলেন, “বাঁকিপুরের মানুষ বিহারের সবচেয়ে ধনী এবং শিক্ষিত। তাঁরা সেরা প্রার্থীকেই বেছে নিন। যদি তাঁরা আমার সততার ওপর বিশ্বাস করতে পারেন, তবে আমি তাঁদের কাছে আমাকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”
ভোটের নির্ঘণ্ট এক নজরে:
মনোনয়ন দাখিল: আজ, সোমবার থেকে শুরু (চলবে ১৩ই জুলাই পর্যন্ত)।
ভোটগ্রহণ: ৩০শে জুলাই।
ভোট গণনা ও ফলাফল: ৩রা আগস্ট।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রাখা এই দুর্গ বিজেপি বাঁচাতে পারে, নাকি ‘জন সুরজ’-এর ঝড়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে বিরোধীরা, এখন সেটাই দেখার।