টয়লেটের মেঝেতে পুঁতে রাখা স্বামীর দেহ! ৪৫ দিন ধরে নাটক করে পুলিশের জালে স্ত্রী

স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে টানা ৪৫ দিন ধরে পুলিশ ও আত্মীয়দের বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। শেষপর্যন্ত নিজেদের বাড়ির বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার হলো নিখোঁজ সুরেন্দ্র কুমার শর্মার (৪৪) পচাগলা দেহ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে আগ্রায়। এই ঘটনায় সুরেন্দ্রর স্ত্রী রুবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কীভাবে ফাঁস হলো রহস্য? গত ১৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুরেন্দ্র শর্মা। অভিযোগ, স্ত্রী রুবি আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের বারবার বলতেন, সুরেন্দ্র কোথাও গেছেন এবং শীঘ্রই ফিরে আসবেন। সন্দেহ এড়াতে ২৬ মে তিনি থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। কিন্তু সুরেন্দ্রর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ দানা বাঁধে। শুক্রবার পুলিশ ফের ওই বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গেলে রুবির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। সুরেন্দ্রর ভাই অনিল শর্মার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে।
বাথরুমের নিচে অশুভ সংকেত তল্লাশির সময় পুলিশের নজর আটকে যায় বাথরুমের একটি অংশে। সেখানে নতুন করে টাইলস বসানো ও প্লাস্টারের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। পুলিশ মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে মাটির নিচে পুঁতে রাখা পচাগলা দেহ। তদন্তকারীদের দাবি, অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মেঝেতে মাটি চাপা দিয়ে নতুন করে টাইলস বসানো হয়েছিল। জেরার মুখে রুবি খুনের কথা স্বীকারও করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
খুনের কারণ কী? প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুরেন্দ্রর নিয়মিত মদ্যপান ও তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। সেই পারিবারিক অশান্তিই কি চরম পরিণতি পেল? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত রুবি জানিয়েছেন, দেহ গোপন করার জন্য তিনি বিশেষ পরিকল্পনায় রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক ভাড়া করেছিলেন।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় রুবি ছাড়াও অন্য কেউ জড়িত কি না, বা রাজমিস্ত্রিরা এই অপরাধের কথা আগে থেকে জানত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।