“মেসিকে নিয়ে করা দাবিও গেল জলে”-ওঝার মুখে ঝামা ঘষে দিলো আর্জেন্টিনা

ফুটবল মাঠে বলের লড়াই তো ছিলই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল অতিপ্রাকৃতের চর্চা! কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচটি কেবল গোল বা জয়ের লড়াই ছিল না, এটি ছিল বিশ্বাস বনাম যুক্তির লড়াই। ঘানার বিতর্কিত ওঝা নানা কওয়াকু বোনসামের সমস্ত অভিশাপ ও ভবিষ্যৎবাণীকে ভুল প্রমাণ করে মেসিরা যখন প্রি-কোয়ার্টারের টিকিট নিশ্চিত করলেন, তখন যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল গোটা আর্জেন্টিনা।
কী বলেছিলেন ঘানার সেই ওঝা?
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের গোল মিসের পর থেকেই চর্চায় উঠে আসেন ঘানার তথাকথিত আধ্যাত্মিক গুরু নানা কওয়াকু বোনসাম। লোকমুখে রটে যায়, তিনি নাকি ফুটবলারদের ওপর তুকতাক ও অভিশাপ দিচ্ছেন। আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, “রাউন্ড অফ ৩২-এ কেপ ভার্দের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে আর্জেন্টিনা। মেসি এই বিশ্বকাপে ৬টির বেশি গোল করতে পারবেন না।” এই পূর্বাভাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন নীল-সাদা জার্সিধারীরা।
অভিশাপের মুখে মোক্ষম চপেটাঘাত ওঝার সেই দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মায়ামিতে নিজের ক্লাবের ঘরের মাঠে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে কেবল গোল করেই ক্ষান্ত হননি, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন ৩-২ ব্যবধানে। এই গোলের সুবাদে এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। ওঝার ৬ গোলের সীমাবদ্ধতার দাবিকে মাঠেই খণ্ডন করেছেন তিনি।
ইতিহাসের পাতায় মেসি শুধু ওঝার মুখ বন্ধ করা নয়, মেসি এই ম্যাচে নিজের ঝুলিতে পুরেছেন অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড:
-
বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩০টি ম্যাচ: ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এই অনন্য নজির গড়লেন মেসি।
-
২০ গোলের মাইলফলক: বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০টি গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হলেন এলএম ১০।
কটাক্ষে নেটিজেনরা ম্যাচ শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঝাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোলিং। নেটিজেনদের মতে, “তুকতাক বা অভিশাপ দিয়ে ফুটবলের ঈশ্বরকে আটকানো অসম্ভব।” ভক্তরা বলছেন, ঘানার সেই ওঝার সমস্ত পূর্বাভাস এখন কেবলই হাস্যকর স্মৃতি।
আর্জেন্টিনা এখন প্রি-কোয়ার্টারে। মেসির পায়ের জাদু অব্যাহত থাকলে কি এবার বিশ্বকাপ জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা? ওঝার ভবিষ্যৎবাণী ভুল প্রমাণ হওয়ার পর এখন এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
সম্পাদকীয় নোট: আপনি কি বিশ্বাস করেন ফুটবলে আধ্যাত্মিক শক্তির কোনো ভূমিকা থাকতে পারে? আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট বক্সে যোগ দিন।