‘ঈশ্বর সব দেখছেন!’ রাম মন্দিরের টাকা চুরির নেপথ্যে ছিল কারা? ফাঁস প্রশাসনিক গাফিলতির পাহাড়

অযোধ্যার রাম মন্দিরের কোটি কোটি টাকার অনুদান ও গয়না চুরি কেলেঙ্কারিতে এবার প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লা এবং অনুকল্প মিশ্রকে খোদ রাম মন্দির চত্বরের অতি সুরক্ষিত গণনা কক্ষের ভেতরে বসে থাকতে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

সিসিটিভি থাকলেও কেন ধরা পড়ল না চোরেরা?
তদন্তে জানা গিয়েছে, শুরুতে কিছুটা ভয় থাকলেও, পরবর্তীতে অভিযুক্তদের সাহস চরমে পৌঁছায়। তারা বুঝতে পেরেছিল যে, কন্ট্রোল রুমে বসে কেউ সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখছে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তারা ক্যামেরার সামনে অবলীলায় টাকার বান্ডিল সরাতে শুরু করে। এসআইটি-র হাতে এখন এমন একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দিবালোকে এই চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়ে আছে।

প্রশাসনিক গলদ ও চম্পত রাইয়ের ‘ভূমিকা’
এই কেলেঙ্কারির নেপথ্যে উঠে আসছে প্রশাসনিক গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (যিনি বর্তমানে ইস্তফা দিয়েছেন), তিনি তৎকালীন ট্রাস্টি অনিল মিশ্রর হাতে টাকা গোনার প্রক্রিয়ার সমস্ত ‘সর্বময় ক্ষমতা’ তুলে দিয়েছিলেন।

সন্দেহজনক নিয়োগ: ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ট্রাস্টের তরফে ১০ জন নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চম্পত রাই নিজে তাঁদের ইন্টারভিউয়ের জন্য সরাসরি অনিল মিশ্রর কাছে পাঠান।

পরিচয়পত্রহীন কর্মী: সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ত্রুটি হলো, এই নতুন কর্মীদের কারোরই কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না। কেবল একটি সাধারণ ‘ডিউটি শিট’ দেখিয়ে তাঁরা মন্দিরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করতেন।

কীভাবে চলত চুরির ছক?
ভক্তদের প্রবল ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে দুটি গণনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল পুলিশ পোস্টের ভেতরে, যেখানে এই অভিযুক্ত কর্মীদের ডিউটি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মূল গণনা কেন্দ্রটি ছিল পিএফসি (PFC) ভবনের বেসমেন্টে। তদন্তে দেখা গেছে, মূল গণনা কেন্দ্রে থাকা মনিটরিং রুমে নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার কথা থাকলেও, বেশিরভাগ সময় তাঁরা আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন। ফলে নজরদারির অভাব ছিল প্রবল।

‘ঈশ্বর সব দেখছেন!’
চুরির ঘটনাটি প্রথম সামনে এসেছিল গত ফেব্রুয়ারিতেই। গণনা দলেরই এক সৎ কর্মী ইন-চার্জ সুভাষ শ্রীবাস্তবকে বিষয়টি জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, “ঈশ্বর সব দেখছেন, ওটা তো আর তোমার বা আমার ঘর থেকে যাচ্ছে না!” এই মন্তব্যই প্রমাণ করে, চুরি নিয়ে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের নীরব সম্মতি ছিল। সোনা বা গয়না চুরির ক্ষেত্রেও কোনো নিয়মতান্ত্রিক রেকর্ড না রাখায় তা সরান ছিল অত্যন্ত সহজ।

পুলিশ এ পর্যন্ত তিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই কেলেঙ্কারির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে ট্রাস্টের অন্দরে লুকিয়ে থাকা একের পর এক বিস্ফোরক দুর্নীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *