সোনম রঘুবংশী মামলার শিক্ষা! কেতন হত্যা মামলায় কেন পলিগ্রাফ পরীক্ষার দ্বারস্থ পুণে পুলিশ?

পুণের লোহাগড় দুর্গে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ পুণে গ্রামীণ পুলিশ। সাম্প্রতিক মেঘালয়ের ‘হানিমুন খুন’ মামলার অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিন পাওয়ার ঘটনায় যে ধরনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি দেখা গিয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার পুলিশ একটি ‘ত্রুটিহীন’ চার্জশিট তৈরির কাজ শুরু করেছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও কেতনের বাগদত্তা সিয়া গয়ালের পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
কেন পলিগ্রাফ পরীক্ষার ওপর এত গুরুত্ব?
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, পলিগ্রাফ পরীক্ষার রিপোর্ট সরাসরি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও কেন এই পরীক্ষা? পুলিশ সূত্রের ব্যাখ্যা, এর মাধ্যমে এমন সব গোপন সূত্র বা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পলিগ্রাফ পরীক্ষার সময় সিয়া যদি এমন কোনো তথ্যের ইঙ্গিত দেন—যেমন দুর্গের খাদ সম্পর্কে তাঁর পূর্বজ্ঞান বা কোনো ডিজিটাল কার্যকলাপ—তাহলে পুলিশ সেই সূত্র ধরে নতুন করে ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের সন্ধান করতে পারবে। অর্থাৎ, সরাসরি পলিগ্রাফ রিপোর্ট নয়, বরং এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত ডিজিটাল বা ফরেনসিক প্রমাণই আদালতে পেশ করা হবে।
চ্যালেঞ্জের মুখে তদন্ত:
তদন্তকারীরা স্বীকার করছেন যে, এই মামলাটি প্রমাণ করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। কারণ:
এই ঘটনায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই, যিনি কেতনকে খাদে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন।
ঘটনাস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে নেই।
পুরো তদন্তটি বর্তমানে মূলত পরিস্থিতিগত প্রমাণের (Circumstantial Evidence) ওপর নির্ভর করে এগোচ্ছে।
কেন এই সতর্কতা?
মেঘালয়ের সোনম রঘুবংশী মামলায় গ্রেফতারি ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় কিছু যান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত ভুল ছিল, যার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যায়। মহারাষ্ট্র পুলিশ সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না। সিয়ার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অবস্থান যাতে কোনোভাবেই দুর্বল না হয়, তার জন্য প্রতিটি তথ্য এবং প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সাজানো হচ্ছে।
তদন্তকারী দলের লক্ষ্য, ডিজিটাল ডেটা, ব্রাউজার হিস্ট্রি এবং লোকেশন ডেটার মতো শক্তিশালী ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে কেতন হত্যাকাণ্ডের জট খোলা। সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এমন সব তথ্যের যোগসূত্র পাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা আইনের চোখে অভিযুক্তের অপরাধের অকাট্য দলিল হয়ে উঠবে।