বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসে বড় স্বস্তি! এক ধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি কমল ১৮৩ টাকা

গত কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের চড়া দাম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকা ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। পশ্চিম এশিয়া ও ইরান সংকটের জেরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম দফায় দফায় বাড়লেও, পরিস্থিতির উন্নতি হতেই এবার সিলিন্ডার প্রতি ১৮৩ টাকা দাম কমাল কেন্দ্রীয় সরকার। এই নতুন দাম আজ, ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে।
দিল্লি সহ বিভিন্ন শহরে দামের প্রভাব:
এই মূল্যহ্রাসের ফলে দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২,৯৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৩,১১৩ টাকা। দেশের অন্যান্য শহরগুলিতেও স্থানীয় শুল্কের ওপর ভিত্তি করে এই দাম কমানো হয়েছে।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মূলত দুটি কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া: বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এলপিজি কার্গোর সরবরাহ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশীয় রিফাইনারিগুলিতে এলপিজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা:
সংকট চলাকালীন জ্বালানি মজুত রাখতে কেন্দ্র বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এমনকি রিফাইনারিগুলিকে পেট্রোকেমিক্যালের পরিবর্তে এলপিজি উৎপাদনের দিকে নজর দিতে বলা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কেন্দ্র সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। এখন থেকে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে কাঁচামালের (C3-C4 স্ট্রিম) স্বাভাবিক বরাদ্দ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রতিদিন ৪০,০০০ টনের বেশি দেশীয় এলপিজি উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে।
সবচেয়ে উপকৃত কারা?
বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পক্ষেত্র এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এলপিজি সরবরাহ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ায় বাল্ক বা পাইকারি এলপিজি সরবরাহও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে।