ধর্মকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় যারা, তাদের বিরুদ্ধেই রাম মন্দিরে চুরির অভিযোগ: অভিষেক

অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান বাবদ জমা পড়া কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগ ঘিরে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে এবার সরাসরি বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির বিরুদ্ধে জনগনের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রাম মন্দির নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক
অযোধ্যার মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় (এক্স হ্যান্ডেল) তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি লেখেন, “যে দল ধর্মীয় বিভাজন উসকে দিয়ে এবং মানুষের বিশ্বাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে, আজ তাদের বিরুদ্ধেই অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যে বিশ্বাস রক্ষার দোহাই তারা দেয়, মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কী হতে পারে?”
যদিও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছেন যে দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, তবুও অভিষেক এই ইস্যুটিকে বিজেপির নৈতিক পতন হিসেবেই দেখছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে ‘পুলিশি শাসন’ নিয়ে তোপ রাম মন্দিরের বিতর্ক ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার ‘পুলিশি রাজ’ কায়েম করেছে।
অভিষেকের দাবি অনুযায়ী:
-
তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা চালাচ্ছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।
-
বিধায়কদের দলবদলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অস্বীকার করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে।
-
বিরোধী দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।
‘ভয় কেন এত?’—প্রশ্ন অভিষেকের
শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সমালোচনা করে অভিষেক লেখেন, “বিজেপি আসলে এমন একটি রাজ্য ও দেশ চায় যেখানে কোনো বিরোধী দল থাকবে না। নাগরিকদের প্রতিবাদ বা ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি যদি সত্যিই মানুষের রায়ে বাংলা জিতে থাকে, তবে এত ভয় কেন? প্রতিবাদের প্রতিটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করার এই মরিয়া চেষ্টা কেন?”
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের চেয়েও জনগণের শক্তিকে বড় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত রুখে দেবে সাধারণ মানুষ। রাম মন্দিরের বিতর্কিত আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং রাজ্যের অস্থিরতা নিয়ে অভিষেকের এই জোড়া আক্রমণ যে আগামী দিনে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।