বিয়ের আগেই হবু স্ত্রীর পরকীয়ার গন্ধ! মৃত্যুর আগে বাবাকে কী বলেছিলেন কেতন?

পুণের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। লোহাগড় দুর্গের চূড়া থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েলের ‘পরকীয়া’র সন্দেহ। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই কেতন তাঁর পরিবারের কাছে সিয়ার আচরণ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
কী বলেছিলেন কেতন? পুলিশি জেরায় কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সিয়ার সন্দেহজনক আচরণ এবং কথোপকথনে চেতন চৌধুরীর নাম বারবার টেনে আনা নিয়ে কেতন অত্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কেতনের অভিযোগ ছিল, সিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ বেশিরভাগ সময়ই তাঁর ফোন ‘বিজি’ থাকত। আর কথা হলেও সিয়া বারবার চেতন চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলতেন। এতেই কেতনের মনে সিয়ার অন্য সম্পর্কের ব্যাপারে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে।
বালির সেই ট্রিপ বাতিলই কি মোড় ঘুরিয়ে দিল? সূত্রের খবর, গত ৬ জুন ইন্দোনেশিয়ার বালিতে তাঁদের প্রি-ওয়েডিং শুটিংয়ের ট্রিপটি রহস্যজনকভাবে বাতিল হওয়ার পর থেকেই কেতনের মনে প্রথম সন্দেহের উদ্রেক হয়। সিয়া তুচ্ছ অজুহাতে তাঁর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কেতন তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বিয়ের আগে সিয়ার ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ বা চরিত্র ঠিকমতো যাচাই করা হয়েছিল কি না। যদিও আগরওয়াল পরিবার তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কেতনকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল।
বিয়ের আগেই মর্মান্তিক পরিণতি আগামী নভেম্বর মাসে কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গের পাহাড় থেকে ধাক্কা মেরে কেতনকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সিয়া এবং চেতনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, কেতন সম্ভবত সিয়া এবং চেতনের এই গোপন সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ফেলেছিলেন, আর সেটাই তাঁর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠল। এই খুনের ঘটনায় আর কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।