হাসিনা কি ফিরছেন? আওয়ামি লিগের মেগা সমাবেশ ঢাকায়! চাপে তারেক সরকার

অগাস্ট ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর দীর্ঘ দু’বছর ভারতের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটালেও, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রভাব এখনো যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মিলল এই সপ্তাহে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ঘোষণার পরই ওপার বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে জটিল হতে শুরু করেছে। আগামী বুধবার দেশজুড়ে আওয়ামি লিগের ডাকা বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে এখন ঢাকা-সহ পুরো বাংলাদেশে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য।

মৃত্যুদণ্ডের রায় ও বিক্ষোভের ডাক সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) শেখ হাসিনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এই রায়কে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসামূলক ও ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছে আওয়ামি লিগ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রায় প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি আগামী বুধবার রাজপথে নিজেদের অস্তিত্ব ও জনসমর্থনের প্রমাণ দিতে দলবদ্ধ হবে তারা।

হাসিনার লড়াইয়ের ঘোষণা প্রায় দু’বছর নির্বাসনে থেকেও শেখ হাসিনা নিজের অবস্থানে অটল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। এ বছরই দেশে ফিরব। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।” তাঁর এই দৃঢ় বক্তব্য বিএনপি সরকারকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

সরকার বনাম বিরোধী জোটের সমীকরণ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও আওয়ামি লিগের এই আকস্মিক সক্রিয়তাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। এদিকে শাসক জোটের ভেতরেও জামাত-এ-ইসলামির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে বিএনপি ও জামাতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দানা বেঁধেছে। এই দড়ি টানাটানির সুযোগ নিয়ে আওয়ামি লিগ এখন রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার আওয়ামি লিগের সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি সরকার প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রথম সারির আওয়ামি লিগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও খবর।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর হাসিনার ভারত থেকে প্রত্যর্পণের দাবি ঢাকা বারবার তুললেও, নয়াদিল্লি এই বিষয়ে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এই অবস্থায় আগামী বুধবারের সমাবেশ কি আওয়ামি লিগের হারানো জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারবে? নাকি সরকার কঠোর হাতে এই প্রতিবাদ দমন করবে? সেই দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

বাংলাদেশের রাজনীতির এই নাটকীয় মোড় এখন কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভারত ও বিশ্বের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *