অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান চুরি! ৮ গ্রেফতার, নিশানায় বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সি ও এসবিআই

অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে চলা তদন্ত এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মন্দিরের দানপত্র থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী সরাসরি ব্যাংকে পৌঁছানোর আগেই আত্মসাৎ করছিল। পুলিশ এখনও পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে।

তদন্তের কেন্দ্রে কারা?
তদন্তকারী বিশেষ দল (SIT) রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, মন্দির পরিচালন ব্যবস্থা ও কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বোঝার জন্যই তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের মোড় ঘুরেছে বারাণসী-ভিত্তিক বেসরকারি সিকিউরিটি সংস্থা ‘সৈনিক সিকিউরিটি সার্ভিসেস’ এবং স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর নয়াঘাট শাখার দিকে।

কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি?

সিকিউরিটি এজেন্সির ভূমিকা: ধৃত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনই ওই বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী। সংস্থাটির ডিরেক্টর গৌরব সিং জানিয়েছেন, তারা ট্রাস্টের অধীনে কাজ করতেন না, বরং এসবিআই-এর অনুরোধে তারা নগদ টাকা গণনার কাজে ১৯ জন কর্মীকে মোতায়েন করেছিল।

ব্যাংকের ওপর চাপ: মন্দিরের পক্ষ থেকে এসবিআইকে অনুদান জমার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ট্রাস্টের কিছু ‘প্রভাবশালী’ সদস্যের চাপে তারা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে এই নগদ গণনা দলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বিস্ফোরক অভিযোগ: গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির নেতা তেজ নারায়ণ ‘পবন’ পান্ডে দাবি করেন যে, প্রায় ৫ থেকে ৭.৫ কোটি টাকার অনুদান চুরি হয়েছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

তদন্তের অগ্রগতি:
১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি এসআইটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর ২৫ জুন এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি, চুরি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ধৃতদের জেল হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। মন্দির ট্রাস্ট, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং আউটসোর্স করা সিকিউরিটি এজেন্সির মধ্যে ঠিক কতটা গভীর যোগসাজশ রয়েছে, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *