ইলিশ মিলছে না? গভীর সমুদ্রে জাল ফেলতেই কপাল খুলল মৎস্যজীবীদের, জালে ৫ কুইন্টাল ‘সোনা’ মাছ!

বর্ষা শুরু হলেও বাঙালির পাতে এখনো ঠিকমতো ধরা দিচ্ছে না রুপোলি শস্য ইলিশ। চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় হতাশায় দিন কাটছিল মৎস্যজীবীদের। ইলিশের খোঁজে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে অনেকেই ফিরছিলেন খালি হাতে। কিন্তু সেই আকালই কাটল এক অভাবনীয় ঘটনায়। ইলিশের পরিবর্তে জালে উঠল পাঁচ কুইন্টালেরও বেশি ওজনের দামি ‘সেলে’ মাছ।
জালে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ:
জানা গিয়েছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়েছে মোট ৪০টি সেলে মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজির কাছাকাছি। মৎস্যজীবীরা এই বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে এসেছেন ডায়মন্ডহারবারের নগেন্দ্র বাজারের হারবার মাছের আড়তে। মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের মতে, মরশুমের প্রথম এই সেলে মাছ পাওয়া এক বিরল ভাগ্য।
কেন এই মাছ এত দামি?
সেলে মাছের চাহিদা ও দামের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তার পটকায়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছের পটকা থেকে অত্যন্ত দামী ওষুধ ও ক্যাপসুল তৈরি হয়, যার আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশছোঁয়া চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে এই মাছের দাম প্রায় ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, জালে ওঠা মাছগুলির মোট বাজারমূল্য প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি:
ইলিশের দেখা না মেলায় যেখানে মৎস্যজীবীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন, সেখানে এই সেলে মাছের আমদানি তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। মৎস্যজীবীদের কথায়, “ইলিশ না পাওয়ার ঘাটতি এই মাছ এক লপ্তে পূরণ করে দিয়েছে।”
বাজারে এখন সেলে মাছের পাশাপাশি তেলিয়া ভোলার চাহিদাও তুঙ্গে। ইলিশের মরশুমেও জালে সেলে মাছের এই বিপুল আমদানি এখন মাছের বাজারে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।