রাম মন্দিরে অনুদান নয়ছয়! অভিযুক্তের ভাই বললেন, “দোষী হলে জেলেই যেতে হবে, পাশে নেই পরিবার”

অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের সংগৃহীত অনুদানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে উত্তাল দেশ। তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনছে পুলিশ। রবিবার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার বাড়িতে হানা দেয় পুলিশি দল। এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্তের ভাইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
“অপরাধী হলে জেলে যেতেই হবে” তদন্তকারী দল অবিনাশ শুক্লার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে অভিযুক্তের ভাই অভিষেক শুক্লা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মন্দির তহবিলের মতো পবিত্র বিষয়ের সঙ্গে জড়িত এই দুর্নীতির ঘটনায় তাঁর ভাই দোষী সাব্যস্ত হলে পরিবার তার কোনো দায়িত্ব নেবে না। অভিষেক বলেন, “তদন্ত চলছে। আমার ভাই যদি অপরাধ করে থাকে, তবে তাকে জেলে যেতেই হবে। দোষী প্রমাণিত হলে আমরা কোনোভাবেই তার পাশে দাঁড়াব না।”
পদত্যাগের হিড়িক ও তদন্তের সূত্রপাত এই দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মন্দির ট্রাস্টের ভেতরে শুরু হয়েছে তোলপাড়। শুক্রবার এই অনিয়মের নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি সদস্য অনিল মিশ্র। অযোধ্যার প্রাক্তন সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক পবন পাণ্ডের অভিযোগ, রাম মন্দিরের অনুদান বাবদ জমা পড়া প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় (৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ এবং ৩(৫)) মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এফআইআর-এ অবিনাশ শুক্লা ছাড়াও অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, টিনু যাদব এবং মণীশ যাদবসহ বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
বর্তমানে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পদত্যাগ এবং অভিযুক্তের পরিবারের এমন কঠোর অবস্থান গোটা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। গোটা দেশের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।