রবিবারের শোকবার্তা! ফ্রান্স ও সৌদি আরবে দুটি পৃথক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৫ জন

রবিবার যেন সারা বিশ্বে এক শোকের কালো মেঘ হয়ে নেমে এল। ফ্রান্স এবং সৌদি আরবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটা দুটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন। একদিকে তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার বিপর্যয়, অন্যদিকে স্কাইডাইভারদের বিমান ভেঙে পড়া—দুটি ঘটনাই নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে।

সৌদি আরবে হেলিকপ্টার বিপর্যয় সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) সূত্রে খবর, রবিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা নাগাদ সৌদি আরবের রাস তানুরা এলাকায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় ১৪ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিহতরা সবাই সৌদি নাগরিক। সৌদি শক্তি সম্পদ মন্ত্রক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।

ফ্রান্সে স্কাইডাইভারবাহী বিমানের করুণ পরিণতি অন্যদিকে, ফ্রান্সের ন্যান্সি শহরের কাছে টমব্লেইন (Tomblaine) এলাকায় একটি অসামরিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। এটি মূলত একটি স্কাইডাইভার প্রশিক্ষণ স্কুলের বিমান ছিল। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটিতে পাইলট ছাড়া ৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন প্রশিক্ষক ছিলেন। স্থানীয় এয়ারফিল্ড থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেটি মুহূর্তের মধ্যে আছড়ে পড়ে। তবে সাহসিকতার বিষয় এই যে, বিমানটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার বাইরে ভেঙে পড়ায় আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তদন্ত শুরু দুই দেশেই সৌদি আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে বিমান দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দুটি ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নকে পুনরায় সামনে নিয়ে এল। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে সমবেদনার বন্যা বইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *