ইরানের মানচিত্র মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের! মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের দামামা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরমে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরান যদি তাদের আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ না করে, তবে মানচিত্র থেকে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

কী কারণে এই সংঘাত? মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার (এম/টি কিকু)-এর ওপর ইরানের আত্মঘাতী ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন এই সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছে। ওই ট্যাঙ্কারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। সেন্টকমের দাবি, ইরানের নজরদারি নেটওয়ার্ক, ক্ষেপণাস্ত্র মজুদস্থল, উপকূলীয় রাডার এবং মাইন পাতার সক্ষমতা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প ও ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। কিন্তু ইরানের ক্রমাগত উস্কানি এই সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে। চুক্তির শর্ত মেনে চললে আলোচনার সুযোগ আছে, কিন্তু হামলা চললে আমেরিকা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।”

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আতঙ্ক মার্কিন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা কুয়েত ও বাহরাইনে আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পাল্টা হামলার ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও অপরিশোধিত তেলের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরান বা আমেরিকা—উভয় দেশই একে অপরকে যুদ্ধ উস্কে দেওয়ার জন্য দায়ী করছে, যার ফলে বড় কোনো সামরিক যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *