৮০ বছর বয়সেও বেহালার সুরে বাঁচার লড়াই! ভাইরাল ভিডিও দেখে মুগ্ধ আনন্দ মাহিন্দ্রা, খুঁজছেন প্রবীণ শিল্পীকে

বয়স আশির কোঠায়, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, হাতে ধরা ৪০ বছরের পুরোনো ভাঙা বেহালা—তবুও কলকাতার রাজপথে তার সুরের মূর্ছনা থেমে নেই। ৮০ বছর বয়সী ভগবান মল্লিকের জীবন সংগ্রামের এক ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। তার কঠোর পরিশ্রম ও সঙ্গীতের প্রতি অটুট নিষ্ঠা কেবল সাধারণ মানুষ নয়, নজর কেড়েছে প্রখ্যাত শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রারও।
অভাবের সংসারে সঙ্গীতের সঙ্গী
শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো ভগবান মল্লিকের জীবনের একমাত্র অবলম্বন বাবার শেখানো বেহালা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কলকাতার ফুটপাতে তিনি যখন সুর তোলেন, তখন পথচারীরা থমকে দাঁড়ান। দিনশেষে এই বেহালা বাজিয়ে তার আয় হয় বড়জোর ১০০ টাকা। এই সামান্য অর্থেই চলে তার এবং তার বৃদ্ধা স্ত্রীর জীবন। দুঃসময়ে স্ত্রীই তার একমাত্র সাহস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ও আনন্দ মাহিন্দ্রার প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি এক পথচারীর তোলা তার বেহালা বাজানোর ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে ফুটে উঠেছে তার সরলতা ও কষ্টের অসামান্য এক মিশেল। লাখ লাখ মানুষ তার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
এই ভিডিওটি নজরে আসে শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রার। তিনি তার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই বৃদ্ধ শিল্পীর প্রশংসা করে লেখেন, “তার সঙ্গীত এবং আবেগে আমি গভীরভাবে মুগ্ধ।” আনন্দ মাহিন্দ্রা জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রবীণ শিল্পীর পাশে দাঁড়াতে চান এবং অন্যদেরও আহ্বান জানিয়েছেন এগিয়ে আসার জন্য।
ঠিকানা খোঁজা হচ্ছে শিল্পীর
তবে বিপত্তি একটি জায়গায়—ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ভগবান মল্লিকের ঠিকানা বা যোগাযোগের কোনো তথ্য নেই। আনন্দ মাহিন্দ্রা তার পোস্টে দেশবাসীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, যদি কেউ এই প্রবীণ শিল্পী সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেন, তবে তা যেন অবশ্যই শেয়ার করেন। যাতে দ্রুত তার কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রেরণার উৎস
ভগবান মল্লিকের গল্প প্রমাণ করে যে, প্রকৃত প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রম বয়সের তোয়াক্কা করে না। প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক, শিল্পের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা থাকলে তা একদিন না একদিন মানুষের হৃদয়ে পৌঁছবেই।