ছত্তিশগড়ে ভয়াবহ খুন: মাছ ব্যবসায়ীকে ৪০ বার ছুরিকাঘাত, সঙ্গীর চোখে লঙ্কা গুঁড়ো ছিটিয়ে নৃশংস হামলা!

ছত্তিশগড়ের ধমতরি জেলায় এক বাঙালি মাছ ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে নাগারি এলাকায় দুষ্কৃতীরা মোটরসাইকেল থামিয়ে ওই ব্যবসায়ীর ওপর চড়াও হয় এবং অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ৪০ বারেরও বেশি আঘাত করে হত্যা করে। মৃত ব্যবসায়ীর নাম বিপ্লব মণ্ডল (৫৫)। তার সঙ্গীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে পালিয়ে যায় খুনিরা।

পথ আটকে নির্মম হামলা
নিহত বিপ্লব মণ্ডল মূলত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা। গত সাত-আট বছর ধরে তিনি গরিয়াবন্দ জেলার বোয়রগাঁও দরিপাড়ায় বসবাস করছিলেন। সিহাওয়া রোডে ‘এমএম ফিশ’ নামে তার একটি মাছের দোকান ছিল। শনিবার রাতে দোকানের পার্টনার চুম্মান যাদবকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বিপ্লব। গোরগাঁও থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গড়িয়াবন্দ সড়কে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাদের পথ আটকায়।

কীভাবে ঘটল ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পথ আটকেই দুষ্কৃতকারীরা বিপ্লব মণ্ডলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এরপরই তারা চুম্মান যাদবের চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা চুম্মান প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বোয়রগাঁও গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের পুরো ঘটনা জানান। এই সুযোগে হামলাকারীরা বিপ্লবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছুরির কোপ বসায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যবসায়ীর। শরীরে ৪০টিরও বেশি ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

তদন্তে পুলিশ, নেপথ্যে শত্রুতা না ডাকাতি?
খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, এটি ডাকাতির চেষ্টা অথবা পুরনো কোনো শত্রুতার ফল হতে পারে। তবে পুলিশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। নাগারি থানার অফিসাররা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক। তাদের ধরতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিনে-দুপুরে বা রাতের অন্ধকারে এমন নৃশংস আক্রমণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

সম্পাদকীয় নোট: এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমরা পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখছি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *