৩০ লাখের চাকরি ছেড়ে ডাক্তার! এক অদ্ভুত সাহসের গল্প শোনালেন আকৃতি গোয়াল

ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছে যেখানে মানুষ স্থিতিশীলতা খোঁজে, সেখানে সব ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়ানো সহজ নয়। তবে আকৃতি গোয়াল প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছেশক্তি থাকলে জীবনকে নতুন করে সাজাতে বয়স কোনো বাধা নয়। ৩০ লক্ষ টাকার বার্ষিক বেতনের বিলাসবহুল কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ডাক্তারি পেশাকে আপন করে নিয়ে তিনি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
কর্পোরেট ইঁদুর দৌড় ও অস্বস্তি:
২০১৫ সালে বিআইটিএস পিলানি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন আকৃতি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর বিভিন্ন স্টার্টআপে কাজ করে লিডারশিপ পজিশনে পৌঁছেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হলেও হৃদয়ে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করত তাঁর। হেলথ-টেক স্টার্টআপে কাজ করার সময় দিনে ১৪ ঘণ্টারও বেশি কাজের চাপে শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয়। এই কঠিন সময়েই নিজের জীবন ও লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তিনি।
শৈশবের স্বপ্ন ও ঘুরে দাঁড়ানো:
ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি ছিল তাঁর তীব্র আকর্ষণ। কিন্তু সময়ের স্রোতে বেছে নিতে হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং। কর্পোরেট জীবনের যান্ত্রিকতায় হাঁপিয়ে উঠে ২০২১ সালে তিনি সাহসী সিদ্ধান্তটি নেন—চাকরি ছেড়ে ডাক্তার হওয়ার প্রস্তুতি। দীর্ঘ এক দশকের বিরতির পর পড়াশোনা শুরু করা ছিল চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নিরলস পড়াশোনা এবং ১০০টিরও বেশি মক টেস্ট দেওয়ার পর তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন।
সাফল্যের শিখরে:
তাঁর এই পরিশ্রম বিফলে যায়নি। NEET-UG ২০২১ পরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৬৭৬ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র্যাঙ্কে ১১১৮ স্থান অর্জন করেন আকৃতি। ৩০ বছর বয়সে নতুন ক্যারিয়ার শুরুর সিদ্ধান্তে পরিবার ও আত্মীয়রা বিস্মিত হলেও, তাঁর দৃঢ় সংকল্প ছিল অটুট। বর্তমানে তিনি দিল্লির নর্থ ডিএমসি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।
অনুপ্রেরণার গল্প:
আকৃতির গল্প কেবল একটি সাফল্যের কাহিনী নয়, এটি সেই সব মানুষের জন্য শিক্ষা, যারা বয়স বা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্যারিয়ারের অর্থ কেবল বেতন নয়, বরং নিজের ভালো লাগার পেশায় কাজ করে আনন্দ খুঁজে পাওয়াটাই আসল সাফল্য। তাঁর এই অদম্য যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে জীবনের যেকোনো মোড় থেকে নতুন করে শুরু করা সম্ভব।