তিন সন্তান ও গয়না নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালালেন স্ত্রী, শ্বশুরই দিলেন প্রাণনাশের হুমকি!

উত্তর প্রদেশের গাজিপুর জেলায় এক পারিবারিক কলহের জেরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন ও তিন সন্তানের জননী হয়েও পরকীয়ার টানে ঘর ছেড়েছেন এক গৃহবধূ। শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন গয়না, নগদ টাকা এবং নিজের তিন সন্তানকে। ঘটনার পর স্বামী অভিযোগ জানালে শ্বশুর তাকে উল্টো হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত:
গাজিপুরের সুহওয়াল থানার ধাড়নি ভানমল রায় গ্রামের বাসিন্দা পেয়ারে লাল ২০১২ সালে মানিয়া গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। দম্পতির সংসারে সানি (১৩), পীযূষ (৯) এবং প্রিয়া (৬) নামে তিন সন্তান রয়েছে। পেয়ারে লালের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রী একই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই পরকীয়া নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
যেভাবে ঘটল ঘটনা:
গত ২০ জুন স্বামী যখন কাজে বাইরে ছিলেন, সেই সুযোগটিই কাজে লাগান ওই গৃহবধূ। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সমস্ত মূল্যবান গয়না, নগদ অর্থ ও পোশাক-আশাক নিয়ে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট দেন তিনি। সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে পেয়ারে লাল দেখেন, ঘর ফাঁকা এবং জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজ না পেয়ে ভেঙে পড়েন তিনি।
শ্বশুরের হুমকির মুখে অসহায় স্বামী:
ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পেয়ারে লাল তার শ্বশুর সিয়ারামকে ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানান। কিন্তু অভিযোগ, শ্বশুর সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার মেয়েকে মারধর করার কারণেই সে আর তোর সাথে থাকবে না। ফের ফোন করলে জানে মেরে ফেলব।”
পুলিশের হস্তক্ষেপে মামলা:
স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলায় অবশেষে পেয়ারে লাল গাজিপুর পুলিশ সুপার (এসপি)-র দ্বারস্থ হন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এসপি। তার নির্দেশে সুহওয়াল থানায় অভিযুক্ত শ্বশুর সিয়ারামের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং নিখোঁজ মা ও তিন সন্তানের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনাটি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।