মুখ্যমন্ত্রীর প্রটোকল না অমানবিকতা? মোমো বিক্রেতা তরুণীর ওপর পুলিশের নির্মম হামলা, বরখাস্ত অভিযুক্ত!

আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এক অমানবিক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক তরুণী মোমো বিক্রেতার ওপর পুলিশি জুলুমের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

কী ঘটেছিল সেই দিন?
ঘটনাটি গত ১৯ জুন সন্ধ্যার। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার আগে মহল রোড এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নাম করে কনস্টেবল নরেন্দ্র ২৭ বছর বয়সী রেশু গুপ্তার মোমোর ঠেলাগাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারেন। এতে ঠেলাগাড়িটি উল্টে গিয়ে ফুটন্ত জল রেশুর শরীরের ওপর পড়ে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ঘটনার ৩ দিন পর ২২ জুন নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে রামনগরিয়া থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

স্বপ্নভঙ্গ রেশুর:
পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বি.এসসি. পাস করা রেশু। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যর্থ হওয়ার পর, আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে মাত্র ২৫ দিন আগে ‘হেলদি আটা মোমোস’-এর ঠেলাগাড়ি চালু করেছিলেন তিনি। পুলিশের এই আচরণে শুধু তাঁর ব্যবসার সরঞ্জামই নষ্ট হয়নি, বরং ভেঙে পড়েছে তাঁর বাঁচার স্বপ্নও।

সরকারের মানবিক পদক্ষেপ:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় ওঠে। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জয়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার ওম কাসেরা এবং ডেপুটি কমিশনার নীলম মীনা সরাসরি রেশুর বাড়িতে পৌঁছে সরকারের সাহায্যের আশ্বাস দেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো:

চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ: রেশুর সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করবে সরকার।

আর্থিক সহায়তা: পরিবারের অভাব মেটাতে দ্রুত আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্থায়ী কর্মসংস্থান: পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পরিবারটিকে একটি দুগ্ধ খামার বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পৌরসভা।

পুলিশের কড়া বার্তা:
গোটা ঘটনায় ডিসিপি-র নির্দেশে অভিযুক্ত কনস্টেবল নরেন্দ্রকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো প্রকার অমানবিক আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *