ব্যাংকের গাফিলতিতে ১১ বছরের লড়াই! এফডি-র টাকা ফেরতে গ্রাহকের ঐতিহাসিক জয়, বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

সারাজীবনের জমানো অর্থ ব্যাংকে রেখেও যদি দিনের পর দিন চরম হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে প্রতিকার কী? কেরালা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক রায় দেশের লক্ষ লক্ষ ব্যাংক গ্রাহকের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর আদালত সমবায় ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গ্রাহকের পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
ত্রিশূরের বাসিন্দা সেতুমাধবন ২০১৫ সালের জুন মাসে তাঁর ৫ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FD) তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অদ্ভুতভাবে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’-র অজুহাত দেখিয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে। তিলে তিলে জমানো টাকা ফিরে পেতে এরপর শুরু হয় সেতুমাধবনের দীর্ঘ সংগ্রাম। ২০২১ সালে জেলা ভোক্তা কমিশন গ্রাহকের পক্ষে রায় দিলেও ব্যাংক তা অমান্য করে। এরপর ৮২৫ দিন দেরি করে ব্যাংক হাইকোর্টের একক বেঞ্চে আপিল করে, যা খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে।
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়:
২ জুন, ২০২৬ তারিখে কেরালা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ব্যাংকের সমস্ত যুক্তি ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, গ্রাহকের টাকা সময়মতো ফেরত দেওয়া যেকোনো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আদালতের পর্যবেক্ষণ:
ভোক্তা সুরক্ষার জয়: আদালত স্পষ্ট করেছে, সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় ‘ভোক্তা সুরক্ষা আইন’ সমবায় সমিতি আইনের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার পাবে।
সুদসহ পাওনা: ব্যাংককে আসল ৫ লক্ষ টাকার সঙ্গে ১২ শতাংশ সুদ এবং ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
কঠোর বার্তা: প্রযুক্তিগত ত্রুটির নামে গ্রাহককে হয়রানি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে আদালত মন্তব্য করেছে।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
ব্যাংকগুলো প্রায়ই বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বা আইনি জটিলতার (যেমন: প্রশাসকের শাসন বা সমবায় আইনের দোহাই) অজুহাত দিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রাখে। কেরালা হাইকোর্টের এই রায় সেই সব ব্যাংকের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। আদালত ব্যাংকের আবেদন খারিজ করলেও, টাকা ফেরতের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
আইনজীবীদের মতে, এই রায়টি একটি নজির হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক যদি গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে অস্বীকার করে বা অযৌক্তিক দেরি করে, তবে গ্রাহকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোক্তা সুরক্ষা আইনের দ্বারস্থ হতে পারবেন।