‘টলিউডে অযোগ্যদের দাপাদাপির দিন শেষ’, রুদ্রনীলের হুঁশিয়ারি, স্টুডিও পাড়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের স্বজনপোষণ এবং রাজনীতিকরণের অভিযোগে সরব হলেন অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের শিল্পীদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুদ্রনীল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলা সিনেমা ও শিল্প সংস্কৃতির জগতে ‘অযোগ্যদের’ দাপাদাপির দিন শেষ। এখন থেকে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একমাত্র মাপকাঠি হবে ‘যোগ্যতা’।
টলিপাড়ায় এবার স্বচ্ছতার ডাক
অ্যাসোসিয়েশন ফর বেঙ্গল ফর লিটারেচার অ্যান্ড কালচার-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে রুদ্রনীল অভিযোগ করেন, বিগত দিনে টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ায় যোগ্যতার বদলে রাজনীতি ও স্বজনপোষণই ছিল কাজের প্রধান শর্ত। এই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন:
যোগ্য শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ঝাড়াই-বাছাই’ চলছে।
তথ্য সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়মিত নজরে রাখছেন।
সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতেও পক্ষপাতিত্বের উর্ধ্বে উঠে গুণী শিল্পীরাই সুযোগ পাবেন।
জনসেবাই এখন পাখির চোখ
অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি শিবপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বভার সামলানো কতটা চ্যালেঞ্জিং? এই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্রনীল অকপটে জানান, অভিনয় তাঁর পেশা হলেও ‘জনসেবাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার’। বিগত সরকারের আমলে সেলিব্রেটি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পরিষেবা না পাওয়ার যে অভিযোগ উঠত, সেই বৃত্ত ভাঙতে তিনি বদ্ধপরিকর।
শিবপুরের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প
নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের কাজকে ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করেছেন রুদ্রনীল। হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যা মেটাতে ৪,৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য পরিষেবা ঢেলে সাজানোর কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে উন্নয়নের কাজ নিজে খতিয়ে দেখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, টলিপাড়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রশাসনিক কাজে মনোনিবেশ করার এই বার্তা রুদ্রনীলের ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।