চার বছর ধরে সরকারি শৌচাগারে তালা! চাপ দিতেই লাঠি নিয়ে তেড়ে গেল প্রভাবশালী বাবা-ছেলে, ইউপিতে তোলপাড়

উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি জেলায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রামের মহিলাদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত একটি সরকারি গণশৌচাগার অবৈধভাবে নিজের কব্জায় রেখে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী বাবা ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। একটানা চার বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও সেই অবৈধ দখল সরাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান সংশ্লিষ্ট গ্রামপ্রধান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা পঞ্চায়েতি রাজ কর্মকর্তা সঞ্জয় মিশ্রের সুপারিশে কৈরোনা থানায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভাদোহি জেলার অন্তর্ভুক্ত কুড়ি খুর্দ গ্রামে। কৈরোনা থানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওমকার নাথ তিওয়ারি এবং তাঁর ছেলে ত্রিভুবন নাথ তিওয়ারি ওরফে নাচকাউ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ২০২২ সাল থেকেই গ্রামের মহিলাদের জন্য তৈরি ওই শৌচাগারটি অবৈধভাবে নিজেদের দখলে রেখে তালা লাগিয়ে রেখেছিল। যখনই গ্রামের প্রধান বা স্থানীয় বাসিন্দারা এতে আপত্তি জানিয়েছেন, তখনই অভিযুক্তরা লাঠি উঁচিয়ে তাঁদের মারধর করতে তেড়ে গিয়েছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযুক্তদের শৌচাগারের তালা খুলে সরকারি সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য বারবার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর কুড়ি খুর্দ গ্রামের প্রধান রিঙ্কু মিশ্রের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনীশ দ্বিবেদী জানান যে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং অবৈধ দখলের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগোচ্ছে।
গ্রামপ্রধান রিঙ্কু মিশ্রের ভাষ্যমতে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ প্রকল্পের অধীনে গ্রামের মহিলাদের সুবিধার্থে ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে এই গণশৌচাগারটি তৈরি করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর কিছুদিন গ্রামের মহিলারা সেটি ব্যবহার করতে পেরেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী অভিযুক্তরা সেটিকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে তালা মেরে দেয়। পরবর্তীতে জেলা পঞ্চায়েত রাজ কর্মকর্তা সঞ্জয় মিশ্র ব্যক্তিগতভাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) এবং পুলিশ সুপারের (SP) সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট তহসিলদার ও রাজস্ব বিভাগের লেখপাল যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান যে শৌচাগারটি সত্যিই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এরপর অভিযুক্তদের তালা খোলার জন্য নতুন করে নোটিশ দেওয়া হলে তারা আদালতে একটি হলফনামা দাখিল করে দাবি করে যে কোনো তালা লাগানো নেই। অতি সম্প্রতি গ্রামপ্রধান ও গ্রামের ক্ষুব্ধ মহিলারা পুনরায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা আবার লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ মহিলারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিযোগ জানালে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।