ভোটার তালিকায় বড়সড় ছাঁটাই! সারা দেশে বাদ পড়ল ৬ কোটি নাম, অস্বস্তিতে রাজনৈতিক মহল

ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় গত এক বছরে সারা দেশে প্রায় ৬ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক নাম বাতিলের ঘটনায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে এবং জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কেন এই বিশাল ছাঁটাই?
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ‘ডেড উড’ বা অবৈধ নাম মুছে ফেলা গণতন্ত্রের স্বার্থেই জরুরি। বাদ দেওয়া নামগুলোর মধ্যে মূলত রয়েছে:

মৃত ব্যক্তির নাম।

একই ব্যক্তির একাধিক এন্ট্রি (ডুপ্লিকেট)।

অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অযোগ্য ভোটারের নাম।

ঠিকানা পরিবর্তনকারী বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম।

আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ফিল্ড ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এই সংশোধন করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য [Aadhaar Redacted] কার্ড এবং রেশন কার্ডের মতো নথিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও অভিযোগ
এই ব্যাপক নাম বাতিলের প্রক্রিয়াকে ঘিরে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ:

এই প্রক্রিয়ায় অনেক প্রকৃত ভোটারের নামও অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়েছে, যার ফলে শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো কোনো এলাকায় বিরোধী ভোট ব্যাংককে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি তাদের।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে। অনেকে দীর্ঘদিনের পুরনো ও ভুল নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় স্বাগত জানালেও, বহু প্রকৃত ভোটার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে সদ্য ঠিকানা বদল করা ব্যক্তি বা নতুন ভোটাররা তাঁদের নাম তালিকায় না পেয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট আশ্বাস, যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তাঁরা প্রয়োজনীয় আবেদনের মাধ্যমে পুনরায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। আগামী নির্বাচনগুলোতে জাল ভোট ও বুথ ক্যাপচারিং রুখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আশাবাদী কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *