চার বছরের রেকর্ড ভেঙে জোড়া ধাক্কা! খুচরোর পর এবার একধাক্কায় ১১% ছাড়াল পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি

খুচরা মুদ্রাস্ফীতির কড়া অভিঘাত সামলে ওঠার আগেই দেশের অর্থনীতির ওপর নেমে এল আরও এক বিরাট বড় ধাক্কা। ৪ দীর্ঘ বছর পর দেশের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি বা হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স (WPI) সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দুই অঙ্কের কোঠা অতিক্রম করেছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বার্ষিক ভিত্তিতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৩৯ শতাংশে, যা ঠিক আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে ছিল ৯.৯২ শতাংশ। দীর্ঘ চার বছর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১০.৭০ শতাংশে পৌঁছেছিল। ফলে স্পষ্টতই ৪ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে পাইকারি বাজারের আগুন দর। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের চড়া দাম, অস্বাভাবিক পরিবহন খরচ এবং জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধির ফলেই ভারতের বাজারে এমন ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মুদ্রাস্ফীতি আগস্টের ২২.৯৩ শতাংশ থেকে একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৮৫ শতাংশে। একইভাবে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার ৮.৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.৭৬ শতাংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং খনিজদ্রব্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ৭.৭৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৬৭ শতাংশ ছুঁয়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো সাধারণ মানুষের পেটে টান ফেলা খাদ্যপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের পাইকারি সূচক, যা আগস্টের ৭.০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৮.৬৬ শতাংশে পৌঁছে গেছে। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছিল যে দেশে খুচরা মুদ্রাস্ফীতিও ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যার নেপথ্যে ছিল বাজারজুড়ে শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের আকাশছোঁয়া দাম।
আর্থিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম কৃষিকাজ, সেচ এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উপরন্তু এলপিজি ও এলএনজির দাম বাড়ায় রাসায়নিক সার উৎপাদনের খরচও উর্ধ্বমুখী। এছাড়া বর্ষার অসম বৃষ্টিপাত এবং জলাধারগুলোতে জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকায় খরিফ ও রবি শস্যের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা খাদ্যপণ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মূল্যস্ফীতির এই লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) তাদের বেঞ্চমার্ক রেপো রেট বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ করেছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে বর্তমানে দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং এর পূর্বাভাস আগের বছরের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে ২০২২-২৩ ভিত্তি বছর ধরে এবং ৯৫৭টি সামগ্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির সংশোধিত হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।