‘ব্র্যান্ড মোদী’কে উপেক্ষা করা অসম্ভব! বাবা প্রণব মুখার্জির স্মৃতিচারণায় জানালেন শর্মিষ্ঠা মুখার্জি

ভারতের রাজনীতিতে মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দুই মেরুর দুই ব্যক্তিত্ব—প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সম্প্রতি প্রণব মুখার্জির কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখার্জি তাঁর লেখা বই ‘প্রণব, মাই ফাদার: এ ডটার রিমেম্বারস’ প্রচারের সময় এই সম্পর্কের কিছু অজানা দিক তুলে ধরেছেন।

২০১৪-এর ঐতিহাসিক জয়ের বিশ্লেষণ
শর্মিষ্ঠা জানান, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। সেই সময় প্রণববাবু তাঁকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে বলেন। মোদীর দেওয়া উত্তরের পর প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নিজের অধ্যাপকের ভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেন যে, এই নির্বাচন কেন অনন্য। তিনি বলেন, এর আগে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি জোটের অঙ্ক বা নবনির্বাচিত সাংসদদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু ২০১৪ সালে একজন নির্দিষ্ট মুখকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা ভারতীয় ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

‘ব্র্যান্ড মোদী’র শক্তি
শর্মিষ্ঠার মতে, প্রণব মুখার্জি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করতেন যে, বিজেপির সেই বিশাল জয় কেবল দলের জয় ছিল না, বরং তা ছিল নরেন্দ্র মোদীর জন্য এক ‘সরাসরি জনরায়’। তিনি বলেন, “আপনি মোদীকে ভালোবাসুন বা ঘৃণা করুন, ‘ব্র্যান্ড মোদী’কে আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন না।” এই বইটি লেখার সময় শর্মিষ্ঠা তাঁর বাবার দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করেছেন।

সংসদ ভবনের সেই আবেগঘন মুহূর্ত
বইটিতে ২০১৪ সালের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথমবার সংসদ ভবনে প্রবেশের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের বর্ণনাও রয়েছে। শর্মিষ্ঠা স্মরণ করেন, জাতীয় রাজনীতিতে নবাগত মোদী যখন প্রথমবার সংসদ ভবনের সিঁড়িতে মাথা নত করেছিলেন, তা লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের হৃদয় জয় করে নিয়েছিল। প্রণব মুখার্জির চোখে এটি ছিল একটি মর্মস্পর্শী অঙ্গভঙ্গি।

ভুলের সংশোধন ও তৃণমূল স্তরের সংযোগ
শর্মিষ্ঠার মতে, প্রণববাবু মনে করতেন বিজেপির জয়ের নেপথ্যে ছিল তৃণমূল স্তরে দলের শক্ত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানোর দক্ষতা। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল—দলটির নিজেদের ভুল দ্রুত স্বীকার করে নেওয়া এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করার মানসিকতা।

পরিশেষে, শর্মিষ্ঠা মুখার্জি লিখেছেন, “এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, মোদীর মুখই সম্ভবত বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী তুরুপের তাস ছিল।” এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং এক নবাগত নেতার উত্থানকে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *