লেবাননে সেনা রাখবে ইসরায়েল! যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরেই কড়া বার্তা নেতানিয়াহুর

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক শান্তি কাঠামোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। মার্কিন মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন থাকবে।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের শত্রুতা মিটিয়ে বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী:

ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার: হিজবুল্লাহর সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস এবং নিরস্ত্র হওয়ার বিষয়টি যাচাই করার পরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে আসবে।

লেবানিজ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ: লেবাননের সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে সেই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে।

পাইলট প্রজেক্ট: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুপারিশ অনুযায়ী, দুটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ‘পাইলট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান
চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখবে। যতক্ষণ না হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র হচ্ছে, ততক্ষণ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।” তিনি আরও জানান, আপাতত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকায় লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না, যাতে নতুন করে কোনো সংঘাতের ঝুঁকি না থাকে।

একদিকে স্বাগত, অন্যদিকে বিরোধিতা
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই চুক্তিকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে, এই চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদাল্লাহ এই প্রক্রিয়াকে ‘অপরাধমূলক’ আখ্যা দিয়ে লেবানন সরকারকে আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত চরমে পৌঁছায়। আগের একাধিক যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন মধ্যস্থতায় এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব কমানোর একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখছে তেল আবিব।

এখন দেখার বিষয়, হিজবুল্লাহর প্রবল আপত্তি এবং মাটির বাস্তবতার নিরিখে এই জটিল শান্তি চুক্তি কতটা কার্যকর হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *