পাকে অ্যাপল! চীনা সংস্থার থেকে চিপ কেনার চেষ্টায় মার্কিন রাজনীতির তোপের মুখে প্রযুক্তি জায়ান্ট

ক্রমবর্ধমান মেমরি চিপের দাম কমাতে এবার চীনের দিকে হাত বাড়ালো অ্যাপল। বিশ্বজুড়ে ম্যাক (Mac) এবং আইপ্যাডের (iPad) দাম বাড়ানোর পর, এবার খরচ কমাতে চীনের মেমরি চিপ নির্মাতা সংস্থা ‘সিএক্সএমটি’ (CXMT)-এর থেকে চিপ কেনার অনুমতি চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তদবির শুরু করেছে অ্যাপল। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গেছে।

কেন এই উদ্যোগ?
বর্তমানে এআই (AI) প্রযুক্তির বিপুল চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে ডি-র‍্যাম (DRAM) চিপের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে চিপ নির্মাতারা এখন ডাটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমরির দিকে বেশি ঝুঁকছে, যা আইফোন বা ল্যাপটপের মতো সাধারণ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য ব্যবহৃত চিপের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে। অ্যাপলের দাবি, মেমরির এই চিপের দাম বর্তমানে ‘অসহনীয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রভাব পড়েছে তাদের পণ্যের মূল্যে। চিপের দামের কারণে সম্প্রতি অ্যাপলের বাজারমূল্য প্রায় ২৬৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫.১৮ লক্ষ কোটি টাকা) কমে গেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে সিএক্সএমটি (CXMT)
অ্যাপল বর্তমানে মাইক্রন (Micron), স্যামসাং (Samsung) এবং এসকে হাইনিক্স (SK Hynix)-এর মতো সংস্থার ওপর নির্ভরশীল। তালিকায় সিএক্সএমটি-কে যোগ করতে পারলে অ্যাপল চিপের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে বলে মনে করছে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। পেন্টাগন সিএক্সএমটি-কে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির সাথে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। যদিও বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী এই সংস্থা থেকে চিপ কেনায় সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে এই ধরনের চুক্তি ওয়াশিংটনের কড়া রাজনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিরোধের আশঙ্কা
অ্যাপলের এই কৌশলী পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হাউস চায়না কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জন মুনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “অ্যাপল যদি চীনা সামরিক সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে, তবে তা হবে একটি গুরুতর ভুল।”

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। এমনকি ভবিষ্যতে সিএক্সএমটি-কে মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার তালিকায় (Entity List) অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, অ্যাপল তাদের এই বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প প্রশাসনকে কতটা আশ্বস্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *