হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক কে ভাগ্যরাজ, শোকে স্তব্ধ চলচ্চিত্র জগত

তামিল চলচ্চিত্র জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। আজ, ২৭ জুন ২০২৬, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা, পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার কে ভাগ্যরাজ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে তামিল সিনেমার একটি বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী পূর্ণিমা ভাগ্যরাজ, ছেলে শানথানু ভাগ্যরাজ এবং মেয়ে সারানিয়া ভাগ্যরাজকে রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, অত্যন্ত কর্মঠ ও প্রাণবন্ত ভাগ্যরাজকে মাত্র কয়েক দিন আগেই অভিনেত্রী খুশবু সুন্দরের মেয়ের বিয়েতে গোয়ায় দেখা গিয়েছিল।

কোয়েম্বাটোর থেকে মাদ্রাজ: সাফল্যের পথচলা
১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করা কে ভাগ্যরাজ কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সিনেমার নেশায় পাড়ি দেন মাদ্রাজে। এমজি রামচন্দ্রন এবং রাজেশ খান্নার অনুরাগী ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্র জীবনের শুরুতে জি রামকৃষ্ণন এবং ভারতীরাজার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৭ সালের ‘১৬ ভায়াথিনিল’ (16 Vayathinile) ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি।

পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে উত্থান
১৯৭৯ সালে ‘সুভারিল্লাধা চিথথিরাঙ্গাল’ (Suvarilladha Chiththirangal) ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। একই বছর ‘পুথিয়া ভারপুগাল’-এ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তামিলনাড়ু রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা সংলাপ লেখক) লাভ করেন। আশির দশকে তামিল চলচ্চিত্রে তিনি এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন—যেখানে একই সঙ্গে চিত্রনাট্য, পরিচালনা, অভিনয় এমনকি সুরকার হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরতেন তিনি।

সাধারণের গল্পে অসাধারণ নির্মাণ
ভাগ্যরাজের প্রতিটি ছবিতে পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক সমস্যা এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিলতাকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হতো। তাঁর ছবিতে হাস্যরস এবং বাস্তবসম্মত সংলাপ দর্শকদের মন জয় করত। উর্বশী এবং কল্পনার মতো তারকাদের তামিল চলচ্চিত্রে পরিচিতি দিয়েছিলেন তিনিই।

‘মুন্ধানাই মুদিচু’, ‘চিন্না ভিদু’, ‘ডার্লিং ডার্লিং ডার্লিং’ এবং ‘সুন্দরা কান্দাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী ছবি উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে তামিল চলচ্চিত্র শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *