রাম মন্দিরে ‘মহালুট’! ‘রাক্ষসদের ফাঁসি দিন’, অযোধ্যায় দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন কেজরিওয়াল

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-কে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার অযোধ্যায় পৌঁছে তিনি মন্দির পরিদর্শন করেন এবং এরপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাম মন্দির ট্রাস্টের অন্দরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যা যা বললেন কেজরিওয়াল:
-
‘রাক্ষসদের ফাঁসি হওয়া উচিত’: অনুদান আত্মসাতের ঘটনাকে ‘মহাপাপ’ আখ্যা দিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, “মন্দিরের দান থেকে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। যারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তারা রাক্ষস। তাদের কঠোরতম শাস্তি বা ফাঁসি হওয়া উচিত।”
-
‘বড় মাছদের আড়াল করা হচ্ছে’: এই মামলায় কেবল আটজন নিম্ন-স্তরের কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এটি স্রেফ একটি প্রহসন। নিচুতলার কর্মীদের বলি দেওয়া হচ্ছে যাতে ট্রাস্টের বড় কর্তাদের বাঁচানো যায়। এটা স্পষ্ট যে, এত বড় দুর্নীতি শুধুমাত্র কিছু জুনিয়র কর্মচারীর পক্ষে করা সম্ভব নয়।”
-
পিএমও-র কাছে হিসাব তলব: কেজরিওয়ালের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) অনুদানের টাকার হিসাব চেয়েছিল, যা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় দিতে অস্বীকার করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগীর বিরুদ্ধে তোপ
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশ্যে কেজরিওয়াল বলেন, “মহারাজ জি, আপনি কেন এই তহবিল চোরদের সমর্থন করছেন? যারা এই লুটের সঙ্গে জড়িত, তারাই এফআইআর করছে এবং নিজেদের সুরক্ষা দিচ্ছে। এদের সমর্থন করা বন্ধ করুন।”
অযোধ্যায় তোলপাড়, পদত্যাগ করলেন চম্পত রায়
ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত ঘটনায় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র তাঁদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গতকালই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র সহ আট অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে যে ধোঁয়াশা কাটছে না, তা কেজরিওয়ালের মন্তব্যেই স্পষ্ট।
মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকার এই কথিত দুর্নীতির তদন্ত কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।