লোহাগড় হত্যাকাণ্ড: পুলিশি হেফাজতে থেকেও মদের বায়না! খুনি সিয়ার ঔদ্ধত্যে তাজ্জব তদন্তকারীরা

মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গের গভীর খাদে হবু স্বামীকে ঠেলে ফেলে খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। নৃশংস এই অপরাধে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী এখন পুলিশি হেফাজতে। তবে হত্যাকাণ্ডের চেয়েও বেশি শোরগোল ফেলেছে হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত সিয়ার বেপরোয়া আচরণ।
অনুতাপহীন খুনি, পুলিশের কাছে মদের বায়না
২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে সিয়া ও চেতনকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রাখা হয়েছে আলাদা লকআপে। কিন্তু পুলিশ সূত্রের খবর, খুনের মতো অপরাধ করেও সিয়ার চোখেমুখে নেই কোনো অনুশোচনা বা ভয়ের ছাপ। বরং পুলিশের কাছে তার অদ্ভুত দাবি শুনে রীতিমতো হতবাক কর্তব্যরত কর্মীরা। জানা গেছে, হেফাজতে থাকার সময় সিয়া পুলিশের কাছে বিয়ার ও মদ চেয়ে বায়না ধরেছিল! এমন অমানবিক আবদার শুনে পুলিশ তাকে তিরস্কার করে এবং কড়া ভাষায় ফিরিয়ে দেয়। এর পর অবশ্য সিয়া শান্ত হয়।
পারস্পরিক দোষারোপের খেলা
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে তাদের চরিত্রের অন্ধকার দিক। একে অপরের সহায়তায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটালেও, এখন বাঁচার তাগিদে একে অপরকে ফাঁসানোর খেলায় মেতেছে এই যুগল।
চেতনের বয়ান: তার দাবি, সিয়ার সঙ্গে সে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পারিবারিক সম্মানহানির ভয়ে সিয়া রাজি হয়নি, বরং উল্টে কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকেই প্ররোচিত করেছিল।
সিয়ার সাফাই: অন্যদিকে, সিয়া সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পুরো ষড়যন্ত্র ও কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল একমাত্র চেতনের।
প্রশ্ন উঠছে সিয়ার মানসিকতা নিয়ে
মাত্র ২০-২৫ বছর বয়সের দুই তরুণের এমন ঠান্ডা মাথার খুনের ঘটনা জনমনে গভীর দাগ কেটেছে। লোহাগড় দুর্গের নির্জনতায় কীভাবে তারা এই ছক কষেছিল এবং কোনো বিকার ছাড়াই হত্যার পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল, তা নিয়ে মনোবিদদেরও ভাবাচ্ছে। পুলিশের দাবি, দুজনেই অত্যন্ত ধূর্ত এবং একে অপরকে দোষারোপ করে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে তদন্তকারী দল এই খুনের প্রতিটি স্তর খতিয়ে দেখছে। পুলিশি হেফাজতে তাদের এই অদ্ভুত আচরণ এবং পাল্টাপাল্টি বয়ান মামলার পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।