বিল্ডিংয়ের প্ল্যানে দুর্নীতি? সরাসরি এফআইআর করুন, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

তারাতলা বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ রুখতে আরও কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, অডিট ছাড়া কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে না। এবার সেই অডিটের আওতায় নতুন করে যুক্ত করা হলো দক্ষিণ দমদম, বরানগর এবং কামারহাটি পুরসভা এলাকাকে।
নির্মাণ অডিট নিয়ে বড় ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, অডিট প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে— বাতিল, সংস্কারের সুযোগ এবং ছাড়পত্র। তিনি আরও বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু কমার্শিয়াল বিল্ডিং ৩১ জুলাই পর্যন্ত অডিট করছি। রেসিডেন্সিয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ আপাতত বাইরে রাখা হয়েছে। তবে নির্মীয়মাণ বহুতলগুলোর জন্য বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হয়েছে।”
তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ— বিল্ডিংয়ের নকশায় ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে, আর অনিয়ম বেশি হলে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বাতিল করা হবে। এছাড়া আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত বহুতলের ‘ফায়ার অডিট’ সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতি রুখতে কড়া বার্তা
তারাতলা বিপর্যয়ের পেছনে নজরদারির অভাবকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বেনিয়ম করবে তাদের ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করা হবে। তৃণমূল জমানায় হওয়া বিভিন্ন নির্মাণ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি জানান, কোনো পুরকর্মী দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, “বাড়ির প্ল্যানে কোনো দুর্নীতি দেখলে সরাসরি এফআইআর করুন। সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ করবে।”
উদ্ধারকাজ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
তারাতলার উদ্ধারকাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রাতের মধ্যেই তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধারকার্যে এনডিআরএফ (NDRF)-এর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বিগত সরকারের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে বিপর্যয় মোকাবিলায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। এই ঘাটতি পূরণে আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সমস্ত আধুনিক সরঞ্জাম কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থান কি আদৌ বেআইনি নির্মাণের রমরমা আটকাতে পারবে? সেদিকেই এখন তাকিয়ে শহরবাসী।