ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার? ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রিফান্ড পেতে জেনে নিন RBI-এর নয়া নির্দেশিকা

অনলাইন জালিয়াতির শিকার হওয়া মানুষদের জন্য এক পরম স্বস্তির খবর নিয়ে এল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন একবার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া গেলে তা ফিরে পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব এক যুদ্ধ। তবে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবার সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে এই নতুন নিয়ম দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে।
কী থাকছে নতুন নিয়মে? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন জালিয়াতির শিকার হওয়া গ্রাহকরা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা রিফান্ড পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে:
-
৫ দিনের নিয়ম: কোনো গ্রাহক ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে, ঘটনাটি তাঁর নজরে আসার ৫ দিনের মধ্যে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানাতে হবে।
-
রিপোর্ট জমা: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকে অভিযোগ জানালে, তদন্ত সাপেক্ষে গ্রাহক সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ব্যাংকে বসছে এআই (AI) নজরদারি শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, প্রতারণা যাতে গোড়াতেই ঠেকানো যায়, তার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে আরও কঠোর হতে বলেছে আরবিআই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ‘মডেল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’-এর নির্দেশিকা মেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং-এর ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সন্দেহজনক লেনদেন রিয়েল-টাইম শনাক্ত করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের টাকা কাটার আগেই তা ব্লক করে দেওয়া সম্ভব হবে।
কেন এই নিয়ম যুগান্তকারী? আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই নতুন নিয়ম আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো দেশের ব্যাংক রেগুলেটরদের থেকেও এক কদম এগিয়ে। ‘ইওয়াই ইন্ডিয়া’-র ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিডার অজয় সিরিকোন্ডা জানিয়েছেন, আগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির মনে এক ধরনের ধোঁয়াশা ছিল। আরবিআই সেই অনিশ্চয়তা দূর করে দিয়েছে, যা ব্যাংকগুলিকে গ্রাহক সুরক্ষায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
গ্রাহকদের মনে রাখা জরুরি: নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরেও গ্রাহক সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। টাকা খোয়া গেলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ব্যাংক এবং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে (Cyber Crime Portal) রিপোর্ট করতে হবে। দ্রুত রিপোর্ট করলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা যে বহুগুণ বেড়ে যায়, তা বলাই বাহুল্য।