তারাতলায় প্রাণহানি! বিধানসভায় প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে নথি পেশ মুখ্যমন্ত্রীর, ৪ সপ্তাহ বন্ধ নির্মাণকাজ

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দুর্নীতি এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে সরকার।

প্রাক্তন মেয়রের দিকে আঙুল
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তারাতলা বিপর্যয়ের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট’ ইতিমধ্যেই নবান্নের হাতে এসেছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সটান কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। বিধানসভায় নথিপত্র প্রদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৭ জানুয়ারি যে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল, তাতে খোদ প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই দুর্নীতিতে পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যোগসাজশ রয়েছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

৪ সপ্তাহ সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ
বেআইনি নির্মাণ রুখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৪ সপ্তাহ কলকাতা পুর এলাকা ছাড়াও রাজারহাট-নিউ টাউন, সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা, বজবজ এবং বিষ্ণুপুরের মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় সমস্ত রকম নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি বিল্ডিং প্ল্যানের অডিট করা হবে।

উদ্ধারকাজে ‘বিগত সরকারের পাপ’
উদ্ধারকাজে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবেও পূর্বতন সরকারকে দুষেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আধুনিক সরঞ্জাম বা ভারী মেশিন কেনার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। গার্ডেনরিচ কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে এনডিআরএফ বা সেনাকে নামতে দেওয়া হয়নি। আধুনিক সরঞ্জামহীন প্রশাসনের কারণেই তারাতলার মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষকে প্রাণ দিতে হলো।” তবে এবার বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর হুঙ্কার:

“কাউকে রেয়াত করা হবে না। নতুন আইন আসছে। দরকারে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব এবং প্রয়োজনে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *