ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট আছে? বন্ধ হয়ে গেল ১৫G এবং ১৫H ফর্ম! ১লা এপ্রিল থেকে ট্যাক্স বাঁচাতে এল নতুন সরকারি নিয়ম

আমরা সাধারণত আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য এবং নিশ্চিত সুদের আশায় ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) কিংবা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখি। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির মোট বার্ষিক আয় করযোগ্য (Taxable) না হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক তাঁর অজান্তেই সুদের ওপর টিডিএস (TDS) কেটে নিয়েছে। আপনার সাথেও কি এমনটা ঘটছে? তবে চিন্তা নেই! আয়কর বিভাগ এমন এক জবরদস্ত বিকল্প নিয়ে এসেছে, যাতে আপনার জমানো টাকার একটি পয়সাও কেউ কাটতে পারবে না।

সবচেয়ে বড় চমক হলো, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে এই নিয়মে এক নজিরবিহীন আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বহু বছরের পুরনো দুটি ফর্মকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে চালু করা হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফর্ম!

উঠে গেল Form 15G এবং 15H! এবার বাজারে এলো ‘ফর্ম ১২১’
ব্যাংক, পোস্ট অফিস কিংবা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সুদের ওপর যাতে অন্যায্যভাবে টিডিএস না কাটা হয়, সেজন্য গ্রাহকদের একটি স্ব-ঘোষণা ফর্ম জমা দিতে হতো। এতদিন পর্যন্ত বয়সভেদে দুটি আলাদা ফর্ম ব্যবহার করা হতো।

ফর্ম ১৫জি (Form 15G): এটি ছিল ৬০ বছরের কম বয়সী নাগরিক এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF)-এর জন্য।

ফর্ম ১৫এইচ (Form 15H): এটি ছিল মূলত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য, যাঁরা অবসরের পর মূলত এফডি-র সুদের ওপরই জীবনধারণ করেন।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের নতুন টুইস্ট: আয়কর আইন ২০২৫-এর অধীনে এবার করদাতাদের ফর্ম বাছাইয়ের বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দিতে এই দুটি ফর্মকেই সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে আনা হয়েছে একটি সমন্বিত এবং অল-ইন-ওয়ান ‘ফর্ম ১২১’ (Form 121)। এখন থেকে আপনার করের পরিমাণ যদি শূন্য হয়, তবে সুদের আয়কে টিডিএস থেকে সুরক্ষিত রাখতে আপনাকে শুধুমাত্র এই একটি ‘ফর্ম ১২১’ আপনার ব্যাংক, পোস্ট অফিস, মিউচুয়াল ফান্ড কিংবা ইপিএফও (EPFO)-তে জমা দিতে হবে।

ভুল করে ব্যাংক টাকা কেটে নিলে ফেরত পাবেন কীভাবে?
অনেক সময় সময়মতো ফর্ম জমা না দেওয়ার কারণে বা তথ্যের অভাবে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিডিএস কেটে নেয়। এমনটা হলেও প্যানিক করার কিচ্ছু নেই। আপনার কেটে নেওয়া টাকা ফেরত (Refund) পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো নিজের আয়কর রিটার্ন বা আইটিআর (ITR) দাখিল করা।

প্রথমে আপনার Form 26AS অথবা AIS (Annual Information Statement) চেক করে নিন। এরপর আইটিআর ফাইল করার সময় আপনার সুদের আয়ের সঠিক তথ্য দিয়ে টিডিএস ক্রেডিটের জন্য দাবি জানান। আপনার চূড়ান্ত করের দায় শূন্য হলে, আয়কর বিভাগ অতিরিক্ত কেটে নেওয়া সমস্ত টাকা সরাসরি সুদসহ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড করে দেবে।

“ট্যাক্স দিতে হয় না, তাও ITR ফাইল?” অবহেলা করলেই ₹৫,০০০ জরিমানা!
আমজনতার মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে যে, “আমার আয় যখন করছাড়ের সীমার নিচে এবং আমাকে কোনো ট্যাক্সই দিতে হয় না, তখন খামোখা আইটিআর (ITR) ফাইল করার কী দরকার?” এই মারাত্মক অবহেলাই ২০২৬ সালে আপনার পকেটের বড়সড় ক্ষতির কারণ হতে পারে!

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আপনাকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খেসারত বা জরিমানা দিতে হতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি আপনার কোনো ব্যবসায়িক ক্ষতি বা শেয়ার বাজার-সংক্রান্ত মূলধনী ক্ষতি (Capital Loss) হয়ে থাকে, তবে আইটিআর ফাইল না করলে আপনি সেই ক্ষতিকে পরবর্তী বছরগুলোতে স্থানান্তর (Carry Forward) করে করের সুবিধা নিতে পারবেন না। তাই বুদ্ধিমানের কাজ করুন, নতুন নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত রাখুন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *