“মুখ খুললেও দোষ, চুপ থাকলেও খোঁটা!” ৫ দশক পর ট্রোলাদের নিয়ে বিস্ফোরক রজনীকান্ত

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমার সিংহাসন দখল করে রেখেছেন তিনি। তিনি রুপোলী পর্দার ‘থালাইভা’— রজনীকান্ত (Rajinikanth)। কিন্তু আকাশছোঁয়া খ্যাতির পিঠে যে সমালোচনার কাঁটাও জড়িয়ে থাকে, এবার সেই চরম বাস্তব নিয়েই প্রকাশ্যে মুখ খুললেন দক্ষিণী সুপারস্টার। তাঁর নতুন ছবি ‘ধর্মম’-এর একটি অনুষ্ঠানে এসে সমালোচকদের উদ্দেশে একরাশ খোলামেলা মন্তব্য করলেন অভিনেতা।
চেন্নাইয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রজনীকান্ত অকপটে স্বীকার করেন, এখন আর কোনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলে তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। কারণ, তাঁর মতে, তিনি যাই বলুন না কেন, তা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়।
🗣️ “বললেও সমস্যা, না বললেও সমস্যা!”
পুরোদস্তুর রসিকতার সুরে থালাইভা বলেন:
“কথা বললেও সমস্যা, আবার চুপ থাকলেও সমস্যা! আমি যদি নীরব থাকি, তখন অনেকে প্রশ্ন তোলেন কেন আমি মুখ খুলছি না। আবার কোনও বিষয়ে মন্তব্য করলেই শুরু হয়ে যায় নতুন বিতর্ক— কেন বললাম, কী কারণে বললাম, বা আদৌ বলা উচিত ছিল কি না, তাই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়।”
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে টান দিয়ে রজনীকান্ত জানান, তিনি একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝেছেন— যাঁরা কাউকে অপছন্দ করেন, তাঁদের কাছে সেই ব্যক্তি যা-ই করুন না কেন, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। আবার কেউ অন্ধ ভক্ত হলেই যে তাঁর সব কাজকে চোখ বন্ধ করে সমর্থন করবেন, এমন ধারণাও ভুল।
ট্রোলিং ও বাস্তবতা
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের অবস্থানের কারণে বারবার ট্রোলারদের নিশানা হতে হয়েছে রজনীকান্তকে। সামান্য সৌজন্য সাক্ষাৎও রূপ নিয়েছে বড় বিতর্কে। এই প্রসঙ্গে অভিনেতার সাফ কথা, প্রত্যেক মানুষেরই উচিত বাস্তবতা মেনে নেওয়া। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন যে, দুনিয়ায় সকলকে একসঙ্গে খুশি রাখা মোটেও সম্ভব নয়।
কাজের ফ্রন্টে কতটা ব্যস্ত ‘থালাইভা’?
বিতর্ক পাশে সরিয়ে রেখে কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন ৭০ পার করা এই তরুণ।
ধর্মম: আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই শুরু হতে চলেছে তাঁর এই নতুন ছবির শুটিং।
জেলার ২: পরিচালক নেলসনের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়।
মেগা প্রজেক্ট: ২০২৭ সালে শুরু হতে চলেছে কমল হাসানের সঙ্গে তাঁর বহুচর্চিত নতুন ছবির কাজ।
তবে নতুন ছবির ধামাকার চেয়েও বর্তমানে নেটপাড়ায় বেশি চর্চায় উঠে এসেছে রজনীকান্তের এই জীবনদর্শন— জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও সমালোচনা এড়ানো যায় না, আর সেই সত্যকে মেনেই এগিয়ে যেতে হয়।