নীরব মোদীর বিপদ বাড়ল লন্ডনে! এবার ১০০ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ আদালতের!

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর আইনি অস্বস্তি তুঙ্গে। ফের একবার লন্ডনের আদালতের কড়া নির্দেশের মুখে পড়লেন তিনি। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারের একটি মামলায় নীরব মোদীকে অবিলম্বে ১০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে লন্ডনের সার্কিট কমার্শিয়াল কোর্ট।
কী কারণে এই নির্দেশ?
আদালত সূত্রে খবর, দুবাইয়ের সংস্থা ‘ফায়ারস্টার ডায়মন্ড এফজেডই’-এর ঋণের জন্য নীরব মোদী ব্যক্তিগত গ্যারান্টি (Personal Guarantee) দিয়েছিলেন। সংস্থাটি ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই দায়ভার এখন পুরোপুরি নীরব মোদীর কাঁধে বর্তাল। মূল ঋণের পরিমাণ ৪.১ মিলিয়ন ডলার হলেও, সুদ মিলিয়ে বর্তমান বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি টাকারও বেশি।
আদালতে খারিজ নীরবের যুক্তি:
লন্ডনের আদালতে নীরব মোদীর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁরা ঋণ ফেরতের নোটিশ পাননি। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি এক ঝটকায় খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নীরব মোদী এই বকেয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। এমনকি, ২০১৯ সালেই তাঁর আইনজীবীরা নোটিশের কপি হাতে পেয়েছিলেন এবং নীরব নিজেই ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে। ফলে, ব্যাঙ্কের দাবিকে আইনত বৈধ বলে মেনে নিয়েছে আদালত।
ভারতের প্রত্যর্পণ লড়াইয়ে বড় জয়:
দীর্ঘদিন ধরে ভারত সরকার নীরব মোদীকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ব্রিটেনের জেলে বন্দি থাকা নীরব ভারতের প্রত্যর্পণ এড়াতে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের (ECHR) দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে লন্ডনের আদালতের আজকের এই রায় ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের আন্তর্জাতিক মহলে চাপে ফেলার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে নীরব মোদীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার আইনি পথ আরও প্রশস্ত হলো।