লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে চরম দুর্নীতি! হাজার হাজার পুরুষ পেল টাকা? বিধানসভায় বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পূর্বতন সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যে প্রকল্প মূলত মহিলাদের জন্য তৈরি হয়েছিল, সেই টাকা বেআইনিভাবে বহু পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে।
মুর্শিদাবাদের তথ্য দিয়ে পর্দাফাঁস: দুর্নীতির নজির হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুর্শিদাবাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জঙ্গিপুর, ডোমকল এবং বহরমপুর ব্লকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে ভুরি ভুরি দুর্নীতি হয়েছে। শুধু ডোমকল ব্লকেই ৫৩৭টি এবং বহরমপুরে ৩১টি এমন অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এভাবে বছরের পর বছর ধরে প্রকৃত উপভোক্তাদের ঠকিয়ে অযোগ্য ও পুরুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পাঠানো হয়েছে।
অনুপ্রবেশকারীদের যোগ: কেবল দুর্নীতি নয়, মুখ্যমন্ত্রী আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বহু ‘অভারতীয়’ ও অনুপ্রবেশকারীও নিয়ম ভেঙে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছে। এই দুর্নীতির জাল ছিঁড়তেই নতুন করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্নপূর্ণা যোজনার আপডেট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে এখন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে সরকার। নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কেন নতুন করে ফর্ম ফিল আপ করানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
-
ভেরিফিকেশন: দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ তালিকা তৈরির জন্য নতুন করে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
-
আবেদনকারীর সংখ্যা: জুন মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ লক্ষ মহিলা এই টাকা পেয়েছেন। মোট ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলা নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
-
টাকার অঙ্ক: তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মহিলারা পেতেন দেড় হাজার টাকা। বিজেপি সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার টাকা।
পেমেন্ট কবে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উপভোক্তারা আগামী ১ জুলাই থেকে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই ৩ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুর্নীতির এই ইস্যুটিকে সামনে এনে সরকার মূলত তাদের নতুন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।